Wednesday, February 5, 2014

ফেসবুক আইডি হ্যাক হওয়ার ৪ কারণ



ঢাকা: বর্তমান যুগে ফেসবুক প্রত্যেকের নিত্যদিনের সঙ্গী। প্রতিদিন অন্তত একবার করে ফেসবুক না দেখলে যেন চলেই না। আবার অনেকে তো প্রতি মুহূর্তেই মোবাইল ও বিভিন্ন উপায়ে ফেসবুকে থাকছেন। অর্থাৎ প্রতিদিনের একটি অপরিহার্য অংশ হয়ে গেছে ফেসবুক। তারচেয়েও বড় ব্যাপার হলো, ফেসবুকে ব্যক্তিগত অনেক তথ্য সংরক্ষিত থাকে। এছাড়াও আপনার ফেসবুকের নিরাপত্তা এতোটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, কেউ তা হাতে পেয়ে গেলে এর মাধ্যমে কেবল আপনার সম্পর্কে তথ্য চুরিই নয়, বরং আপনার চিত্রটাকেই সবার সামনে নষ্ট করে ফেলতে পারে।

ফেসবুক অ্যাপ্লিকেশন, কজ এবং বিজ্ঞাপন
ফেসবুকের অসংখ্য অ্যাপ্লিকেশনের অধিকাংশই নিরাপদ নয়। কিছুদিন আগে ফার্মভিলের মতো সর্বাধিক জনপ্রিয় কিছু অ্যাপ্লিকেশন ও গেমও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুসারে স্বীকার করেছে যে, তারা বিজ্ঞাপনের স্বার্থে তাদের ব্যবহারকারীদের কিছু তথ্য দিয়েছে। এছাড়াও অসংখ্যা অ্যাপ্লিকেশনের ভাণ্ডারে হঠাৎই হয়তো এমন কোনো অ্যাপ্লিকেশন থেকে আপনাকে রিকোয়েস্ট বা ইনভাইট পাঠানো হলো যেটা পাসওয়ার্ড চুরি করে। কিন্তু আপনি তা কখনোই ধরতে পারবেন না।

আসল কথা হলো, এসব অজানা-অচেনা কজ, অ্যাপ্লিকেশন ইত্যাদি থেকে যত দূরে থাকা যায় ততোই ভালো। অন্যথায় এসবের মাধ্যমে আপনার পাসওয়ার্ড বা অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্যাদি হ্যাকারদের হাতে পড়লে আপনার অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণই চলে যেতে পারে।

ফেসবুক ই-মেইল ফিশিং
একটু অসতর্ক হলেই ই-মেইলের মাধ্যমেও ফেসবুকের পাসওয়ার্ড চুরির শিকার হতে পারেন। অনেক চতুর হ্যাকাররা ঠিক ফেসবুক নোটিফিকেশনের মতো করে ই-মেইল তৈরি করে এবং তা ফেসবুকের মতোই কাছাকাছি কোনো ডোমেইন থেকে ই-মেইল আকারে পাঠায়। এসব ই-মেইলে থাকা লিংকগুলো ক্লিক করলে যে সাইটটি ওপেন হবে সেটাও অবিকল ফেসবুকের মতোই হবে। কিন্তু মূলত এটি ফিশিং সাইট।

এর ফলে, আপনার ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড নিশ্চিন্তে হ্যাকার মশাইরা পেয়ে যাচ্ছে। এসব আক্রমণ থেকে বাঁচতে সবসময় ই-মেইলের লিংকে ক্লিক করার আগে দেখে নেয়া উচিৎ তা facebook.com ঠিকানাতেই যাচ্ছে কি না। কারণ, যতো যাই হোক। ফেসবুকের ঠিকানা ঠিক থাকলে লগইন করতে আর কোনো ঝামেলা নেই।

ফেসবুক শেয়ার বাটন
থার্ড পার্টি সাইটের বিভিন্ন কন্টেন্ট যেমন- পোস্ট, ছবি, ভিডিও ইত্যাদি ফেসবুকে শেয়ার করার জন্য শেয়ার বাটন যুক্ত করা থাকে। মূলত ব্যবহারকারীর সুবিধার্থেই এই ফেসবুক শেয়ার বাটনগুলো যুক্ত করা হয়। কিন্তু এই শেয়ার বাটনও আপনার ফেসবুকের পাসওয়ার্ড চুরির কারণ হতে পারে।

অনেক হ্যাকাররা তাদের সাইটে শেয়ার বাটন নিজেরা যোগ করে এবং সেখানে ক্লিক করলে যেই সাইট ওপেন হয়, সেটা ফেসবুকের মতো দেখতে হলেও তা আসলে ফিশিং সাইট। আপনি ফেসবুক মনে করে লগইন করার চেষ্টা করতে গেলেই আপনার পাসওয়ার্ড চলে যাবে তাদের হাতে। এক্ষেত্রেও আপনি যদি সতর্ক থাকেন তাহলে ফিশিং সাইট এড়াতে পারবেন। কেবল খেয়াল রাখবেন যেই লিংকে ক্লিক করছেন, তা facebook.com কি না।

পাবলিক কম্পিউটারে লগইন
সাইবার ক্যাফে বা এ জাতীয় পাবলিক কম্পিউটারে লগইন করার সময়ও সতর্ক থাকতে হবে। সাইবার ক্যাফে থেকে লগইন করার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হচ্ছে কি-লগার। অনেক সফটওয়্যার আছে যেগুলো কম্পিউটারে থাকলে আপনি ব্রাউজিং করার সময় ব্যবহৃত সব পাসওয়ার্ড সেইভ করে ফেলে। তবে ফায়ারফক্স বা ক্রোম ব্যবহার করলে এই ঝুঁকি থাকে না বলেই জানা গেছে।

তবে আরেকটি সাধারণ ভুল অনেকেই করেন তাহলো remember me/keep me logged in বক্সে টিক দিয়ে লগইন করেন। অথবা পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করার অনুমতি চাইলে অনেকে না বুঝেই বা তাড়াহুড়োয় সেভ করে ফেলেন। এতে করে আপনার অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড চুরি না হলেও আপনার অ্যকাউন্টে অন্য কেউ অ্যাক্সেস পেয়ে যাচ্ছে যা সমানভাবেই ক্ষতিকর।

আমাদের সবারই উচিৎ কেবল ফেসবুকই নয়, বরং ই-মেইলসহ যাবতীয় সব পাসওয়ার্ড নিরাপদ রাখার ব্যাপারে সতর্ক হওয়া এবং বিশেষ করে কোনো সাইটে লগইন করার আগে বা পাসওয়ার্ড দেয়ার আগে এবং ই-মেইলে আসা লিংকে ক্লিক করার আগে নিশ্চিত হয়ে নেয়া যে ই-মেইলটি বা ওয়েবসাইটটি ফিশিং সাইট নয়। তাহলে ফেসবুকসহ যাবতীয় সব পাসওয়ার্ড নিরাপদ রাখা সম্ভব হবে।

Thursday, January 16, 2014

বাংলাদেশ নিয়ে বৃটিশ পার্লামেন্টে তুমুল বিতর্ক : প্রশ্নবৃদ্ধ নির্বাচন সমালোচনায় সরকার



ডেস্ক রিপোর্ট : বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তুমুল বিতর্ক হয়েছে বৃটিশ পার্লামেন্টে। প্রায় ৩ ঘন্টাব্যাপী এই বিতর্কে অংশ নেন পার্লামেন্টের সকল দলের এমপিরা। সকাল সাড়ে ১১টা ৪০ মিনিটে শুরু হওয়া পার্লামেন্টে দিনের প্রথম অধিবেশনেই স্থান পায় বাংলাদেশ ইস্যু। দুপুর দেড়টায় বির্তক শেষ হওয়ার কথা থাকলেও শেষ হয় বেলা ২টা ১৮ মিনিটে। বাংলাদেশ নিয়ে বৃটিশ পার্লামেন্টে এতো দীর্ঘ সময় ধরে বিতর্ক বৃটেনের ইতিহাসে এই প্রথম। পার্লামেন্টের ডেপুটি ¯িপকার লিনসে হয়েল এর সভাপতিত্বে শুরুতে বির্তকের সূচনা করেন কনজারভেটিভ পার্টির এমপি এ্যান মেইন এমপি। এর পরেই একে একে বক্তব্যে অংশ নেন পার্লামেন্টে উপস্থিত বাকী সদস্যরা।
বৃটিশ এমপিরা তাদের বক্তব্যে বলেন , বাংলাদেশ বৃটেনের একটি অনত্যম গুরুত্বপূর্ন উন্নয়ন সহযোগী। বৃটেন থেকে প্রতিবছর ২ বিলিয়ন পাউন্ড অর্থ সহায়তা পায় বাংলাদেশ। তাই বাংলাদেশকে একটি স্থিতিশীল রাস্ট্র দেখতে চায় বৃটেন। বৃটিশ এমপিরা বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশ আজ দ্বিধা বিভক্ত। দেশে বর্তমানে যা ঘটছে তা কোনভাবেই গ্রহযোগ্য নয়। শেখ হাসিরার সরকার যেভাবে দেশ চালাচেছন তাতে দেশে বিরোধী দল আছে বলে মনে হচেছনা। এমন অবস্থায় আর্ন্তজাতিক মহলের দায়িত্ব রয়েছে। বাংলাদেশে এমন অস্থিতিশীল অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে বৃটিশ সরকারকে বাংলাদেশ নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। বৃটিশ এমপিরা বাংলাদেশের বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের কঠোর সমালোচনা করে নানা বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বৃটিশ পার্লামেন্টের এমপিদের আলোচনায় উঠে আসে, দেশের সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় নির্বাচন, নির্বাচন পরবর্তী সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন, বিরোধী দলের ভূমিকা, যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া, মানবাধিকার লঙ্গন ইস্যুসহ আইন শৃক্সখলা বাহিনীর হাতে বিনা বিচারে মানুষ হত্যার মতো গুরুতর এসব অভিযোগগুলো। এছাড়াও আলোচনায় স্থান পাায় নিখোঁজ বিএনপির সাংগঠনিক স¤পাদক এম ইলিয়াস আলীসহ রাজনৈতিক নেতাদের গুমের ঘটনা ও জামায়াতে ইসলামির রাজনীতি করার অধিকার নিয়ে।
পার্লামেন্ট আলোচনার শেষ পর্যায়ে এসে বৃটিশ ফরেন অফিস মিনিস্টার ডেভিড লিজিংটন, বাংলাদেশে পূনরায় একটি স্বচচছ ও নিরপেক্ষ নিবার্চন দাবী করে সরকারকে দ্রুত পদেক্ষপ নিতে আহবান জানান। সংখ্যালঘু নির্যাতন ইস্যুতে বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপোষহীন ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসার পাশাপাশি বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন ও শিক্ষাক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর অবদানের প্রশংসা করেন লিজিংটন।
শ্যাডো ফরেন অফিস মিনিস্টার ক্যারি ম্যাকার্থি, বাংলাদেশ সরকারকে আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায়ের আত্মবিশ্বাস অর্জন করা এখন বড়ো চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, নির্বাচন বাংলাদেশের নিজস্ব ব্যাপার তবে এটি কতটুকু স্বচছ ও নিরোপেক্ষ হচেছ তা দেখার অধিকার আছে বিশ্ব সম্প্রদায়ের।
এছাড়াও আলোচনায় অংশ নেন, ক্ষমতাসীন কনজারভেটিব পার্টির এমপি রিচার্ড ফুলার, লেবার পার্টির এমপি গ্যাবিন সুকার, কনজারভেটিব পার্টির এমপি নেইল পারিস, লেবার পার্টির প্রবীন নেতা জেরিমি করভিন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির এমপি জন হেমিং, জিম ফিজপ্রেট্রিক এমপি,বাঙালী এমপি রোশনারা আলী ও কনজারভেটিভ পার্টির এমপি বব বেকম্যান, রহমান চিশতী এমপি, নিক ডি ভয়েস এমপি, জনাথন আসরথ এমপি,
লিবডেম এমপি মার্টিন হরউডসহ বেশ কয়েকজন এমপি।
ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির রিচার্ড ফুলার বলেন, বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগগুলো খুবই গুরুতর। বিরোধীদলহীণ প্রশ্নবৃদ্ধ জাতীয় নির্বাচন, বিনা বিচারের হত্যা ও মানবাধিকার চরমভাবে লঙ্গিত হচেছ বাংলাদেশে। রেপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র‌্যাব) বাংলাদেশের ৬০০ মানুুষকে এ পর্যন্ত হত্যা করেছে উল্লেখ করে সরকারদলীয় এই এমপি এক পর্যায়ে নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী গুমের ইস্যুটিও উখতাপন করেন বৃটিশ পার্লামেন্টে। তিনি বিশ্বনাথ ভ্রমনের কথা উল্লেখ করে বলেন, দেশের এমন একজন মেধাবী নেতা নিখোঁজ হওয়ার পরও সরকার নির্বিকার ভূমিকা পালন করছে। এ ব্যাপারে কোন অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়নি। আর্ন্তজাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান বিচারপতি হকের পদত্যাগ উল্লেখ করে, এই সংস্থাটির নিরপেক্ষ ভূমিকা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেন। বৃটেন সকল ধরনের মৃত্যুদন্ড কার্যকরের ঘটনায় তারা উদ্বিগ্ন প্রকাশ করে কাদের মুল্লার মৃত্যুদন্ডকে ভূল সিদ্ধান্ত হিসেবে মন্তব্য করেন।
লেবার পার্টির প্রবীন নেতা জেরিমি করভিন, বাংলাদেশে মিডিয়ার উপর সরকারী দমন পীড়নের কথা উল্লেক করে বলেন, দেশে মিডিয়ার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরী। তিনি যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে আশংকা প্রকাশ করে বলেন, একটি দেশে বিচার ব্যবস্থা স্বাধীন না হলে বিপর্যয় অনিবার্য হয়ে উঠে। তিনি সাথে সাথে ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা আহবান জানান।
লেবার পার্টির এমপি গ্যাবিন সুকার বলেন, বাংলাদেশের দশম নির্বাচন যেভাবে স¤পন্ন হলো এটাকে কোন নির্বাচন বলা যাবেনা। যেখানে মাত্র ৪ থেকে ৫টি নির্বাচন পরিদর্শক ছাড়া জাতিসংঘ ও ইউরোপিয় ইউনিয়নের কোন পরিদর্শক নির্বাচন পরিদর্শন করেনি। তাতে প্রতিয়মান হয় বাংলাদেশে কোন সুস্টু ও গ্রহন যোগ্য নির্বাচন হয়নি। তাই অবিলম্বে নতুন নির্বাচন জরুরী বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পার্লামেন্টে বাঙালী এমপি রোশনারা আলী, বাংলাদেশে গত ফেব্র“য়ারী মাস থেকে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহতদের জন্য দু:খ প্রকাশ করে বলেন , আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষ সব সময়ই চিন্তিত থাকেন দেশে ফেলে আসা তাদের স্বজনদের ব্যাপারে। তিনি বলেন, দেশে একটি স্বচছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য বড়ো দলগুলো অতীতে ব্যর্থ হয়েছে। ৫ জানুয়ারীর নির্বাচন স্বচছ হয়নি উল্লেক করে তিনি দেশের সহিংসতা বন্ধ এবং বিরোধী দলের গনতান্ত্রিক কর্মসূচিতে বাধাঁ না দেওয়ার জন্য সরকারকে অনুরোধ জানান।
কনজারভেটিভ পার্টির এমপি বব বেকম্যান বলেন, জামায়াতে ইসলামির প্রসংঙ্গ টেনে বলেন, জামায়াত কোন সন্ত্রাসী সংগঠন নয়। তাদেরকে সন্ত্রাসী হিসেবে বিশ্বের কোন সংস্থা এখন পর্যন্ত চিহিত করতে পারেনি। দেশের বিগত নির্বাচনেও তারা অংশ নিয়ে তাদের প্রতিনিধি পাঠিয়েছে পার্লামেন্টে। বাংলাদেশের ৪-৫% জনগনের প্রতিনিধিত্ব করে এই সংগঠনটি। অথচ সরকার তাদেরকে ভোটের অধিকার হরন করেছে। তাদের নির্বাচনের বাহিরে রেখেছে। তিনি বলেন জামায়াত যদি বাংলাদেশের রাজনীতি করতে না পারে তাহলে তারা আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যাবে। যা বাংলাদেশের সুস্থ রাজনীতির জন্য কোনভাবেই কল্যানকর হবেনা। তিনি এ সময় বাংলাদেশের তত্তবধায়ক সরকার জরুরী বলে উল্লেখ করেন।
কনজারভেটিভ পাটির এমপি নেইল পারিস বলেন, বাংলাদেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের নেত্রী দুজনই দুজনের প্রতি হিংসাত্মক মনোভাব নিয়ে রাজনীতি করেন। যা দেশের সামগ্রিক রাজনীতিতে প্রভাব পড়ছে। এটা একটি দেশে গনতান্ত্রিক উত্তরনে কোনভাবেই কাম্য নয়

Monday, January 13, 2014

কোন দল বা মতকে নির্মূল করতে চাওয়াটাই ফ্যাসিবাদী মানসিকতা : মাহফুজউল্লাহ



‘কোন দল বা মতকে নির্মূল করতে চাওয়াটাই ফ্যাসিবাদী মানসিকতা’- শনিবার দিবাগত রাতে বেসরকারি টেলিভিশন বাংলাভিশনের নিউজ অ্যান্ড ভিউজ অনুষ্ঠানে সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ একথা বলেন।

সিপিবির কেন্দ্রীয় সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম জামায়াতকে নির্মূল করার কথা বললে সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ এ মন্তব্য করেন। মাহফুজউল্লাহ একথা বলার সাথে সাথে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম উত্তেজিত হয়ে কথা বলতে শুরু করেন। এক্ষেত্রে মাহফুজউল্লাহ প্রতিবাদ করে বলেন, এটাই ফ্যাসিবাদ; আপনার বক্তব্যের সময় তো আমি কোন কথা বলিনি।

মাহফুজউল্লাহ আরো বলেন, একটা দল বা জনগোষ্টিকে আপনি কিভাবে নির্মূল করবেন? ক্যাডার সিস্টেমটা তাদের সাংগঠনিক কাঠামো।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে যশোর, পাবনা, নেত্রকোনাসহ বিভিন্ন জায়গায় সংখ্যালঘু নির্যাতনের সাথে বিএনপি-জামায়াত নয়, বরং আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততাই দেখা গেছে। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতাদের বক্তব্যেও সেরকম কথা উঠে এসেছে।

http://dailynayadiganta.com/index.php

কোন দল বা মতকে নির্মূল করতে চাওয়াটাই ফ্যাসিবাদী মানসিকতা : মাহফুজউল্লাহ



‘কোন দল বা মতকে নির্মূল করতে চাওয়াটাই ফ্যাসিবাদী মানসিকতা’- শনিবার দিবাগত রাতে বেসরকারি টেলিভিশন বাংলাভিশনের নিউজ অ্যান্ড ভিউজ অনুষ্ঠানে সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ একথা বলেন।

সিপিবির কেন্দ্রীয় সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম জামায়াতকে নির্মূল করার কথা বললে সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ এ মন্তব্য করেন। মাহফুজউল্লাহ একথা বলার সাথে সাথে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম উত্তেজিত হয়ে কথা বলতে শুরু করেন। এক্ষেত্রে মাহফুজউল্লাহ প্রতিবাদ করে বলেন, এটাই ফ্যাসিবাদ; আপনার বক্তব্যের সময় তো আমি কোন কথা বলিনি।

মাহফুজউল্লাহ আরো বলেন, একটা দল বা জনগোষ্টিকে আপনি কিভাবে নির্মূল করবেন? ক্যাডার সিস্টেমটা তাদের সাংগঠনিক কাঠামো।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে যশোর, পাবনা, নেত্রকোনাসহ বিভিন্ন জায়গায় সংখ্যালঘু নির্যাতনের সাথে বিএনপি-জামায়াত নয়, বরং আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততাই দেখা গেছে। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতাদের বক্তব্যেও সেরকম কথা উঠে এসেছে।

http://dailynayadiganta.com/index.php

Friday, January 10, 2014

বিপজ্জনক রশিতে হাসিনা হাঁটছেন, মেজর ডালিম


শেখ হাসিনার বন্ধুরা কি তাকে পরিত্যাগ করছেন? এই প্রশ্ন আওয়ামী লীগের এবং শেখ হাসিনার নিজেরও বটে। হাসিনার পারিবারিক ধারাবাহিকতা ভারতের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য, যেমন কিনা পারিবারিক অন্য সব বিষয়াদিও তারই হস্তগত শক্তভাবেই। কিন্তু ভিজে সাবান যেমন হাত থেকে পিছলে যায় তেমনি তার হাত থেকে সবই যেন ফসকে যাচ্ছে।

তার প্রতি বিরূপ হবার জন্য শুধুমাত্র ভারতকে দোষ দেয়া যায় না। তার নিজের দোষও এ ব্যাপারে কম নয়; বরং অনেক বেশী হাসিনা। তার মদদ দাতারা যেমন আশা করেছিল উত্তরাধিকার ধারাবাহিকতায় স্বার্থ রক্ষা করবে তা হয়নি। সজীব ওয়াজেদ জয় এমন কোন করিৎকর্মা গুণ দেখাতে পারেনি যাতে সে প্রমাণ করতে পেরেছে যে সে অনেক কাজের মানুষ। বরং সে আমেরিকায় এমন জীবন ধারন ও চলনবলন করেছে যার ফলে তাকে এমন কি জেলে পর্যন্ত থাকতে হয়েছে ওদেশের আইন ভঙ্গকারী উচ্ছৃংখল ব্যক্তি বিশেষ হিসেবে। পারিবারিক ঝগড়াঝাটিও জয়ের চরিত্রকে কলুষিত করেছে। জয়কে নিয়ে শেখ রেহানার যথেষ্ট সন্দেহ আছে যে সে আদৌ যথার্থ উত্তরাধিকারী হতে পারে কি না। হাসিনার মদদদাতা মুরুব্বীরাও জয়কে পছন্দ করছে না বরং গভীরভাবে অপছন্দ করছে। ১৯৭৫-৮১ সময়কালে হাসিনা যখন দিল্লীতে ‘র’ এর একটি বাড়ীতে বসন্ত বাহার এ থাকতেন তখন একজন শিখ মেয়ের সাথে কিশোর জয়ের ভালবাসা লেনদেন হয় (হয়ত লাগিয়ে দেয়া)। সে মেয়েটি ইসলাম ধর্ম গ্রহন করতে অস্বীকার করলে সে বিয়ে আর হয়নি। কেউ কেউ বলেন যে, সেই শিখ মেয়েটি মুসলমান হয়ে জয়কে বিয়ে করতে রাজী হয়নি এজন্য যে জয় ভবিষ্যতে মায়ের বা পরিবারের পথ ধরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ক্ষমতার সর্বোচ্চ শিখরে আরোহন করতে পারবে না। তাছাড়াও ২০০৭ সালে হাসিনার নির্বাচনে জিতবার সম্ভাবনাও যে ক্ষীণ ছিল তাও তার বন্ধুদের বিরূপ হওয়ার একটি কারণ হয়ে থাকতে পারে। এ কারণেই তারা বাংলাদেশে আর একটি রক্তগঙ্গা বইয়ে দেয়ার জন্য পরিকল্পিত ও অঢেল অর্থ ব্যয়ের সামগ্রিক কার্যক্রম গ্রহন করেছিল।

সময়মত নির্বাচন অনুষ্ঠান ওরা অসম্ভব করেছিল। হিটলার এবং কমিউনিষ্ট স্ট্যালিন তাদের কবরে শুয়ে থেকে নিশ্চিতভাবেই অস্বস্তি বোধ করেছিলেন এজন্য যে, তারাও বাংলাদেশের এই হাসিনার রক্তগঙ্গা বইয়ে দেয়ার কাছে হেরে যাচ্ছিল।

একটু ভিন্নভাবে তাকালে সংক্ষেপে বলা যায় যে, বাংলাদেশ যেন এই খেলায় পূর্ণভাবে হেরে যাচ্ছিল। এমন শাসনতান্ত্রিক সংকট সৃষ্টি হয়েছিল যে, যে শাসনতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বহু কষ্টে নির্মিত হয়েছিল, তা নিঃশেষ হতে চলেছিল। জানামতে বাংলাদেশের বিশাল অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছিল; পোষাক শিল্পে কোটি কোটি ডলারের বৈদেশিক অর্ডার বাতিল হয়েছিল, আন্দাজ করুন কে সেসব অর্ডার হাইজ্যাক করেছিল? বাংলাদেশের সেই ‘দয়ালু প্রতিবেশী’ ছাড়া অন্য আর কেউ কি? বিদেশী বিনিয়োগকারীরা ভয়ে হাত গুটিয়ে নিয়েছিল এবং অব্যাহত ধর্মঘট অবরোধ অর্থনীতির প্রতিটি সেক্টরে মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে এনেছিল।

পরিশেষে এবং খুবই জরুরী বিষয় ছিল এই যে, অসংখ্য নিরীহ মানুষের জীবননাশ হয়েছিল-কোন বড় কাজে নয়, অনেকের বাড়ীঘর ধ্বংস করা হয়েছিল, বাংলার মানুষের গরীবরাই বরং বেশী করে ধ্বংস হয়েছিল।

হাসিনার দুঃখের কথায় ফিরে আসলে নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, হাসিনা যখন সরকারে অথবা বিরোধী আসনে বসে থেকে তার বিদেশী মদদ দাতাদের সাহায্যাদি পেয়েছিলেন, তারা এখন তার থেকে দূরে সরে দাঁড়িয়েছে। এ ধরনের অসন্তোষজনক অবস্থানে হাসিনাকে যদি দ্বিতীয় সারির নেতা হিসেবে সংসদে বসে থেকে অন্যদের বক্তব্য শুনতে হয়, অথবা চিরতরে তার নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যত রুদ্ধ হয়, তাতে বোধ করি অবাক হবার কিছু থাকবে না।

আ.লীগকে স্বৈরাচারদের ভাগ্য বরণ করতে হবে: ফখরুল


বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন বন্ধ না করলে আওয়ামী লীগকে অতীতের স্বৈরাচারদের মতোই ভাগ্য বরণ করতে হবে। আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ৫ জানুয়ারির অগ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা আঁকড়ে রেখে ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার ও অপকৌশল দ্বারা চলমান গণ-আন্দোলনকে কোনোভাবেই কলুষিত করে স্তব্ধ করা যাবে না। তিনি অভিযোগ করেন, প্রহসনের নির্বাচনে নিজেদের বিজয়ী ঘোষণা করে বর্তমান অবৈধ আওয়ামী লীগ সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে ফ্যাসিবাদী কায়দায় বিরোধী দল নিধনের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছে। এ লক্ষ্যে তারা দেশকে ক্রমান্বয়ে এক চরম নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘সরকারদলীয় গুন্ডারা’ সংখ্যালঘুদের ওপর বর্বর হামলা চালিয়ে তার দায়ভার বিরোধী দলের ওপর চাপানোর অপচেষ্টা করছে।

যৌথবাহিনী এবং তাদের সহায়তায় সরকারি দলের সন্ত্রাসীদের দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মীদের বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন ফখরুল।

বিবৃতিতে সংখ্যালঘুদের ওপর অমানবিক ও বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ১৮-দলীয় জোটের নেতা-কর্মীদের হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে থেকে তাদের সাহায্য সহযোগিতা করার আহ্বান জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঘোষিত সব কর্মসূচি চালিয়ে যেতে খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল।

‘সংবিধান রক্ষায়’ সংবিধানবিচ্যুত শপথ



ফ্রান্সের রাজা চতুর্দশ লুই দেশ শাসন করেছিলেন ১৬৪৩ থেকে ৭২ বছরের বেশি। ‘আমিই রাষ্ট্র’ কথাটি তাঁর জবানিতেই পরিচিত। অপ্রয়োজনে সংবিধান থেকে সরে আজই শপথ এবং ১২ জানুয়ারির মধ্যে নতুন সরকার গঠনের প্রশ্নবিদ্ধ উদ্যোগ দেখে লুইয়ের কয়েকটি উদ্ধৃতি স্মরণে আসছে। লুই বলেছিলেন, ‘যে ব্যক্তি নিজেকে জয় করতে পারে, তার সামনে আর সামান্যই কিছু টিকতে পারে।’ অবশ্য তিনি তাঁর অন্তিম শয়ানে বলেছিলেন, ‘আমি চলে যাচ্ছি কিন্তু রাষ্ট্র সর্বদাই টিকে থাকবে।’
রকিব উদ্দীন কমিশন গতকাল গেজেট করে যা করল, তাতে মনে হয় তাঁরা লুইয়ের সপ্তদশ শতাব্দীর রাজকর্মচারী। তাঁরা লুইয়ের মনোবাঞ্ছা পূরণ করছেন। লুই বলতেন, ‘এটা আইনসম্মত, কারণ এটাই আমার অভিপ্রায়।’ এখন সরকার সংসদ ভাঙছে না অথচ ইসিকে দিয়ে সংবিধান ভাঙাচ্ছে। সরকারি মন্ত্রণাদাতারা ও তাদের তথাকথিত শুভানুধ্যায়ীরা উদ্ভট ও অসাংবিধানিক মন্ত্রণা দিচ্ছেন। তাঁরা নাকি বলছেন, নবম সংসদ ভাঙতে হবে না। শপথ নিলে এবং দশম সংসদ ডাকলেই নবম সংসদ বিলুপ্ত হবে। অথচ সংবিধান বলেছে, শুধু দুভাবে সংসদ লুপ্ত হবে। প্রথমত প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শে রাষ্ট্রপতির আদেশে। দ্বিতীয়ত প্রথম বৈঠক থেকে পাঁচ বছরের মেয়াদ পুরা হলে। এটা পুরা হবে ২৪ জানুয়ারি। এই তারিখ এলেই তবে সংসদ আপনাআপনি ভাঙবে। কাউকে ভাঙতে হবে না। এখন নাকি সিদ্ধান্ত হয়েছে, সংসদ ভাঙতে রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দেওয়া হবে না। ২৪ জানুয়ারির জন্য অপেক্ষাও করা হবে না। তালি বাজিয়ে নবম সংসদ উধাও করে দেওয়া হবে।
রাষ্ট্রপতি, স্পিকার ও প্রত্যেক নির্বাচন কমিশনার শপথ নিয়েছিলেন, আমি সংবিধানের রক্ষণ ও সমর্থন ও নিরাপত্তা বিধান করব। আইন অনুযায়ী ও বিশ্বস্ততার সঙ্গে আমার পদের কর্তব্য পালন করব এবং আমার সরকারি কার্য ও সরকারি সিদ্ধান্তকে ব্যক্তিগত স্বার্থের দ্বারা প্রভাবিত হতে দেব না।
গতকাল নতুন নির্বাচনের ফলাফল সরকারি বিজ্ঞপ্তি দ্বারা প্রকাশ করে ইসি সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদের তিন দফার শর্ত নির্দিষ্টভাবে লঙ্ঘন করল। স্পিকার শপথ পড়ানোর দায়িত্ব নিয়ে তাঁর শপথও লঙ্ঘন করলেন। এরপর বাকি থাকবেন রাষ্ট্রপতি।
১২৩ অনুচ্ছেদের বিধান নিম্নরূপ: ‘(৩) সংসদ-সদস্যদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে (ক) মেয়াদ-অবসানের কারণে সংসদ ভাঙ্গিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাঙ্গিয়া যাইবার পূর্ববর্তী নব্বই দিনের মধ্যে: এবং (খ) মেয়াদ-অবসান ব্যতীত অন্য কোনো কারণে সংসদ ভাঙ্গিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাঙ্গিয়া যাইবার পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে: তবে শর্ত থাকে যে, এই দফার (ক) উপ-দফা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত ব্যক্তিগণ, উক্ত উপ-দফায় উল্লিখিত মেয়াদ সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত সংসদ-সদস্যরূপে কার্যভার গ্রহণ করিবেন না।’ দশম সংসদ নির্বাচন ওই (ক) উপদফা মতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সুতরাং সংবিধান বলেছে, ‘নির্বাচিত ব্যক্তিগণ’ আগামী ২৪ জানুয়ারি অর্থাৎ ‘মেয়াদ সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত সংসদ-সদস্যরূপে কার্যভার গ্রহণ করবেন না।’ কিন্তু শপথ নিয়ে আজই তাঁরা কার্যভার গ্রহণ করছেন।
সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদের ২(ক) দফায় শপথের বিধান আছে। তাই ১২৩ ও ১৪৮ অনুচ্ছেদ মিলিয়ে পড়তে হবে। ১৪৮(২ক) বলেছে, ‘১২৩ অনুচ্ছেদের (৩) দফার অধীন অনুষ্ঠিত সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত হওয়ার তারিখ হতে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে’ শপথ পড়াতে হবে। এই অনুচ্ছেদেরই ৩ উপদফা বলেছে, শপথ মাত্রই কার্যভার গ্রহণ।
ইসি যদি ২৩ জানুয়ারিতেও গেজেট প্রকাশ করত, তাহলে ২৫ জানুয়ারিতেই শপথ পড়ানো সম্ভব ছিল। বহুল উচ্চারিত ‘সংবিধান রক্ষার’ জন্য তারা ১৫ দিন সময় অপেক্ষা করতে পারেনি।
এর আগে ২৪ জানুয়ারির পর নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের চিন্তাভাবনা ছিল। এখন ‘সংখ্যালঘুদের ওপর হামলাসহ বিদ্যমান পরিস্থিতির’ কথা বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ে শপথ গ্রহণ করা হচ্ছে। পত্রিকায় এসেছে, গত সোমবার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনা করে শপথের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এটা বিশ্বাস করা কঠিন যে, রাষ্ট্রপতি সংবিধান ভঙ্গ করার সভায় পৌরোহিত্য করেছেন।
শাসকগণ প্রমাণ দিচ্ছেন, মাত্র ১৫ দিন বিলম্বের চেয়ে সংবিধান ভাঙা অনেক সহজ। অথচ এঁরাই সংবিধানের কোনো বিচ্যুতি ঘটালেও বিরাট শাস্তির বিধান করেছেন।
শাসকেরা চাইলেই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংবিধান সংশোধন করে ১২৩ অনুচ্ছেদের ওই শর্তাংশ মুছে ফেলতে পারতেন। কিন্তু তাতে বদনাম হবে। লোকে ধরে ফেলবে। সংবিধানে সংশোধনী আনা বদনামের। কিন্তু তাকে দলিতকরণ দোষণীয় বা দণ্ডনীয় নয়। লোকে ধরতে পারবে না। আমরা তথাকথিত সাংবিধানিক শাসনে কতটা আছি, এটা তার আরেকটি প্রমাণ।
রকিব কমিশন সংবিধান ভাঙল। শপথ পড়ালে স্পিকারও তার ভাগীদার হবেন। এখন দেখতে হবে, রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী হতে শেখ হাসিনাকে কবে কখন আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি এটা করলে তাঁর তরফে একটি নির্দিষ্ট সাংবিধানিক বিচ্যুতি ঘটানো হবে। তিনি যদি সরকার করার আমন্ত্রণ জানাতে আরও ১৫ দিন সময় নেন, তাহলে সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ বেঁচে যাবে। আমরা বুঝতে অপারগ থাকব, নবম সংসদের সত্তা মাঘের কুয়াশায় মিলিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত কী করে তিনি দশম সংসদ ডাকবেন।
২৪ জানুয়ারির আগে রাষ্ট্রপতি দশম সংসদের কোনো সদস্যকে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বৈধভাবে নিয়োগ দিতে পারেন না। কারণ সংবিধানের ৫৬(৩) অনুচ্ছেদ বলেছে, ‘যে সংসদ সদস্য সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন বলে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রতীয়মান হবেন, রাষ্ট্রপতি তাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করবেন।’ কিন্তু সংবিধানমতে আমি তো ২৪ জানুয়ারির আগে কার্যভার গ্রহণ-উপযোগী কোনো ‘সংসদ সদস্য’ দেখি না। সংবিধানবহির্ভূত শপথ আইনের চোখে বৈধ শপথ হবে না। তাই রাষ্ট্রপতি তাঁদেরকে সরকার গড়তে আহ্বান জানাতে বাধ্য নন। শুনেছি, রাষ্ট্রপতি সঠিক পরামর্শ দিয়ে বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁকে অগ্রাহ্য করা হয়েছে।
এখন রাষ্ট্রপতি যদি ২৪ জানুয়ারির আগে দশম সংসদের কোনো সদস্যকে প্রধানমন্ত্রী হতে আমন্ত্রণ জানান, তাহলে তিনি সংবিধানের ১২৩ ও ৫৬ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত হবেন। রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসনের ক্ষেত্র সৃষ্টি হবে।
যেকোনো ধরনের সম্ভাব্য পরিস্থিতি সংবিধান কল্পনা করেছিল। তাই ৫৭(৩) অনুচ্ছেদ বলেছে, ‘প্রধানমন্ত্রীর উত্তরাধিকারী কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীকে স্বীয় পদে বহাল থাকতে কোনো কিছুই অযোগ্য করবে না।’
আসলে ভয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ। নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ দলটি এখন তাদের লব্ধ ‘বিজয়’ হাতছাড়া হওয়ার ভয়ে শঙ্কিত। তাই সংবিধানের এমন শক্তিশালী রক্ষাকবচ সত্ত্বেও কখন কী হয় এ প্রশ্ন তাদের তাড়া করে ফিরছে।
বস্তুত তাঁরা রাজার ইচ্ছা পূরণ করছেন। সংবিধানবিচ্যুত হয়ে সংবিধান রক্ষণের শপথ আজ। এই রাষ্ট্রে কার কাছে এর প্রতিকার চাইব?



মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক।
mrkhanbd@gmail.com

সেনাবাহিনীর দূর্দিন আসছে !!!


ভারত সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিব শংকর মেনন ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) লে জেনারেল মইনুল ইসলামের গোপন বৈঠক হয়েছে সিঙ্গাপুরে। ভোটার বিহীন নির্বাচন কালীন সময়ে সেনাবাহিনী ও সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়ার ভুমিকায় অসন্তুষ্ট ভারত সরকার। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সেনাপ্রধানকে সরিয়ে দিয়ে নতুন সেনাপ্রধান বানানো ও সেনাবাহিনীকে ভারতীয় বাহিনীর সহায়ক বাহিনী বানানোর প্রক্রিয়া নিয়ে এই আলোচনা হয় বলে জানা গেছে। সহসাই সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়াকে সরিয়ে দিয়ে নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে লে জেনারেল মইনুলকে নিয়োগ দেয়া এবং বাংলাদেশের প্রতি অনুগত দেশপ্রেমিক সেনা জেনারেল, ব্রিগেডিয়ার ও কর্নেল পদমর্যাদার বেশ কিছু কর্মকর্তাকে সরিয়ে দিতে একটি তালিকা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ভারতীয় বাহিনীর কিছু অফিসারকে বাংলাদেশী সাজিয়ে নিযুক্ত করতে ভারত সক্ষম হয়েছে বলে অন্য একটি সুত্র জানিয়েছে। এই সকল ভারতীয় অফিসারদের দ্বারাই পদোন্নতি ও বদলির বিষয়ে তালিকা বানানো হয়, যা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বাস্তবায়ন করেন। এদিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ধীরে ধীরে ভারতীয় বাহিনীর সহায়ক বাহিনীতে পরিণত করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ন্যাটো ও চীন এ বিষয়টিকে সুনজরে দেখছে না বলে বলে জানা গেছে।
-
তথ্যসুত্রে : ক্যাপিটাল হিল, ওয়াসিংটনের প্রভাবশালী লবিষ্ট
- জাহিদ এফ সরদার (সাদী)
-

ভাই মন্ত্রী বোন কারাগারে!



নানা নাটকীয়তা আর উত্তেজনায় ঠাসা এখন বাংলাদেশের রাজনীতি। ঘটছে বিস্ময়কর সব ঘটনা। বিরোধীদলীয় নেত্রী রওশন এরশাদ। তিনিই কিনা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছেন সংসদ নেত্রীর সঙ্গে।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেছেন, জাতীয় পার্টি সরকারি দলে থাকবে, বিরোধী দলেও থাকবে। রাজনীতির এমন সৌহার্দ্যপূর্ণ রূপ কবে, কখন আমরা আশা করতে পেরেছিলাম। অতি আশাবাদীদের কল্পনাকেও হার মানিয়েছে বাস্তবতা।

তবে অন্যদিকটিও রয়েছে। গত প্রায় এক মাস ধরেই রওশন এরশাদের স্বামী জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বন্দি রয়েছেন হাসপাতাল নামক কারাগারে। এমনকি বৃহস্পতিবারও সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেননি তিনি। তার ভাগ্যে কি জুটতে যাচ্ছে তার জন্য হয়তো আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে।

এর বাইরেও অবশ্য সাসপেনশনের অভাব নেই। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান এখন কারাগারে। অথচ তার ভাই রাশেদ খান মেনন মন্ত্রিসভার সদস্য। যদিও ভাই-বোনের রাজনৈতিক পথচলা আলাদা। রাশেদ খান মেনন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি। এ দলটি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন জোটের অংশীদার।

বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খন্দকার মাহবুব হোসেন কারাবন্দি। অথচ তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অন্যতম উপদেষ্টা ইত্তেফাক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর মামা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আরেক প্রভাবশালী উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী। তার বেয়াই আবদুল আউয়াল মিন্টু-ও এখন কারাগারে বন্দি। আসলেই রাজনীতি বড়ই অদ্ভুত!

বাংলাদেশের নতুন সরকার অবৈধ



প্রধান বিরোধী দলসহ বেশির ভাগ রাজনৈতিক দলের বর্জনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গঠিত সরকার অবৈধ বলে মন্তব্য করেছেন কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা।

পত্রিকাটি শুক্রবার ‘ভারতের দায়িত্ব’ শীর্ষক সম্পাদকীয়তে এ মন্তব্য করেছে।

সম্পাদকীয়তে বলা হয়, একপাক্ষিক নির্বাচনে মাত্র ২২ শতাংশ ভোটে ক্ষমতাসীন সরকারই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে। ফলে গণতন্ত্রের মাপকাঠিতে নতুন সরকারের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ কিংবা সরাসরি অবৈধ ।

সম্পাদকীয়তে আরো বলা হয়, বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকার বিষয়েও নয়াদিল্লির একটি স্পষ্ট অবস্থানে আসা দরকার। মূল বিরোধী দলের বয়কটে এবার বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন নিশ্চিতভাবেই একপাক্ষিক হয়েছে, মাত্র ২২ শতাংশ ভোট পড়েছে, ক্ষমতাসীন সরকারই কার্যত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনরায় ক্ষমতার হাল ধরেছে। স্বভাবতই গণতন্ত্রের মাপকাঠিতে নূতন সরকারের বৈধতা প্রশ্নযোগ্য কিংবা সরাসরি অবৈধ। যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন তাদের অনাস্থা ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে। গণতান্ত্রিক নীতিতে আমূল অঙ্গীকারাবদ্ধ ভারতও স্বস্তিতে নেই।

আনন্দবাজার লিখেছে, ‘তবে গণতন্ত্রের নীতি অনুযায়ী অন্য একটি প্রশ্নও এ ক্ষেত্রে উঠে বইকী। ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে বিরোধী দলেরও কিছু ন্যূনতম দায়দায়িত্ব থাকিবার কথা। ক্রমাগত অনুরোধ-উপরোধ সত্ত্বেও রাজনৈতিক জেদ-বশত ভোট বয়কট করিয়া ভোটের প্রেক্ষিত রক্তাক্ত হিংসাদীর্ণ করিয়া তুলিবার অধিকারও গণতন্ত্রে গ্রহণযোগ্য নয়। ক্ষমতাপ্রাপ্ত সরকারের বৈধতার প্রশ্নটি যেমন জরুরি, সরকার প্রতিষ্ঠা তথা গণতন্ত্র-পদ্ধতির প্রতি স্পষ্টত অসহযোগ দেখাইবার জন্য বিএনপি-জামাতের গণতান্ত্রিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নটিও সমধিক জরুরি। শেখ হাসিনারও যেমন সরকার-চালনার জন্য আরও ‘বৈধ’ জনভিত্তি দরকার, বিরোধী নেত্রী খালেদা জিয়ারও উচিত, প্রয়োজনীয় শর্তসাপেক্ষে নির্বাচনের মতো গুরুতর গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে অংশগ্রহণ করা। বিশ্বের নিকট বাংলাদেশের সরকার-পক্ষ ও বিরোধী-পক্ষের এই পরস্পর-সংযুক্ত ‘দায়’-এর বিষয়টি তুলিয়া ধরিবার জন্য দরকার নয়াদিল্লিকে। দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তিও সমপ্রীতি রক্ষার লক্ষ্যে ভারত একটি সক্রিয় ভূমিকা পালন করুক।’

বাংলাদেশ এই মুহূর্তে ভারতের অন্যতম সংকট উল্লেখ করে আনন্দবাজার লিখেছে, ‘এই মুহূর্তে ভারতের অন্যতম বৃহৎ সংকটটির নাম : বাংলাদেশ। ঢাকার নির্বাচন পরবর্তী ঘটনাক্রম দেখাইয়া দিতেছে যে নির্বাচনের কয়েক মাস আগে হইতে যে লাগাতার রাজনৈতিক সংঘর্ষে সে দেশ আচ্ছন্ন ছিল, সেই সংঘর্ষ পরিস্থিতি আরও অনেক তীব্র হইয়াছে, একটি ভোট অনুষ্ঠান যেন রাতারাতি দেশটিকে দুই শিবিরে বিভক্ত করিয়া দিয়াছে। এক দিকে আওয়ামী লীগের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ, অন্যদিকে বিরোধী দুই দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামি পক্ষ।

মৌলবাদী, হিংসাপন্থী ইত্যাদি বিভাজনের অতি-সরলতায় যাইবার প্রয়োজন নাই, কেননা সকল সমাজগত ও ধর্মগত তকমা বাদ দিয়াই বলা যাইতে পারে, দুই রাজনৈতিক গোষ্ঠীর এই বিভাজনের মধ্যে জমা হইয়াছে তুমুল বিস্ফোরক বারুদ। একদিকে যেমন সেই বারুদে জ্বলিতেছে বাংলাদেশের শহর-গ্রাম-জনপদ, প্রবল বিরোধিতার মধ্যেও ভোটদানের ‘স্পর্ধা’ দেখাইবার অপরাধে বহু মানুষের ঘরবাড়ি জমিজমা পুড়িতেছে, সঙ্গে সঙ্গে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তেও সেই বারুদ বিপুল বেগে আছড়াইয়া পড়িবার উপক্রম।’

সম্পাদকীয়তে লেখা হয়েছে, ‘যেকোনো দাঙ্গা-পরিস্থিতিতেই বাংলাদেশের প্রচুর নাগরিক উদ্বাস্তু হইয়া সীমান্ত পারাইয়া ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করেন, বর্তমান সংঘর্ষ পরিস্থিতিতে সেই সম্ভাবনা তো আরও বেশি, কেননা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে চলাচল আপাতত অতি-দুরূহতায় পর্যবসিত। তদুপরি একটি পক্ষ সর্বদাই অপর পক্ষটিকে ভারত-তোষণের অপবাদে অভিযুক্ত করিয়া থাকে, সুতরাং এই সম্ভাবনাও যথেষ্ট যে হিংসাবশত কিছু আক্রমণকারীও এই সুযোগে ভারতে প্রবেশ করিতে চাহিবে। যেহেতু আন্তর্জাতিক জঙ্গি ইসলামের সহিত বাংলাদেশের জামাতের সম্পর্ক স্পষ্ট এবং যেহেতু আন্তর্জাতিক জঙ্গি ইসলামের ভারত-বিদ্বেষও সর্বজ্ঞাত, বিষয়টি ভারতের পক্ষে অতীব সংবেদনশীল। স্বভাবতই ভারতীয় উদ্বেগ সদ্যনির্বাচিত বাংলাদেশের সরকারের কাছে জানাইয়াছেন নয়াদিল্লির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা।

http://www.sheershanews.com/2014/01/10/21379#sthash.dsrR8c1N.dpuf

Wednesday, January 8, 2014

আমরা অবিলম্বে সংখ্যলঘুদের জান-মাল, উপসনালয় নিয়ে নোংরা রাজনৈতিক খেলা বন্ধ করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি-------- ডা. শফিকুর রহমান




তারিখঃ ০৮-০১-২০১৪ ইং
সরকার কর্তৃক অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়ে হামলা, ভাংচুরের ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এবং জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে তদন্ত কমিশন গঠন করে দোষী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান আজ ৮ জানুয়ারী নি¤েœাক্ত বিবৃতি প্রদান করেছেন ঃ-

“আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি, সরকার অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘুদের বাড়ীঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, উপাসনালয়ে হামলা চালিয়ে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে তার দায় জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের উপর চাপিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এ পর্যন্ত যতগুলো ঘটনা ঘটেছে প্রত্যেকটি ঘটনার সাথে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও আওয়ামী দলীয় ক্যাডারদের সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া গিয়েছে। অত্যন্ত দূর্ভাগ্যজনক যে, কতিপয় প্রচার মাধ্যম ঘটনাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে প্রকৃত সত্যকে আড়াল করছেন, আর বিনা তদন্তে সত্যতা যাচাই করা ছাড়াই জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের উপর দোষ চাপিয়ে কল্প কাহিনী রচনা করছেন। এতে প্রকৃত ঘটনা চাপা পড়ে যাচ্ছে, সন্ত্রাসীরা দ্বিগুন উৎসাহ নিয়ে অপকর্ম সংঘটিত করছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নোংরা রাজনৈতিক খেলার শিকার হচ্ছেন।

অতি সম্প্রতি সংখ্যালঘুদের উপর যে হামলা চলছে, তার সাথে ক্ষমতাসীন মহল সরাসরি জড়িত। তাদের এসব অপকর্মের ফিরিস্তি তুলে ধরে শেষ করা যাবে না। নি¤েœ তার কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরা হলো ঃ

* নোয়াখালীর কৃষ্ণপুরে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ ক্যাডাররা হিন্দুদের ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলা চালায়। এ ঘটনায় স্থানীয় পুজা কমিটি আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের ১০ ক্যাডারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।

* টাঙ্গাইলে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ীতে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা হামলা করে। এর প্রতিকার চেয়ে মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশান দায়ের করা হয়। মহামান্য হাইকোর্ট ঘটনার জন্য দায়ী আওয়ামী নেতা-কর্মীদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেন।

* পাবনার সাথিয়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলা ও ভাংচুর করতে গিয়ে ধরা পড়ে যুবলীগের ক্যাডাররা।

* বগুড়া শহীদ মিনারে হামলা ও ভাংচুর করতে গিয়ে যুবলীগ নেতা হাতেনাতে ধরা পড়ে।

* ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারপতি জাহাঙ্গির হোসেনের গ্রামের বাড়ীতে হামলা করতে গিয়ে ছাত্রলীগের ৩ ক্যাডার হাতে নাতে ধরা পড়ে।

* ফেনীতে সেনাবাহিনীর গাড়িতে ককটেল নিক্ষেপ করতে গিয়ে ধরা পড়ে ছাত্রলীগের কর্মী।

* ময়মনসিংহে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় উপাসনালয় থেকে শিব মুর্তি চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে যুবলীগের কর্মী।

* সাতক্ষীরায় সংখ্যালঘুদের বাড়ীঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করতে গিয়ে যুবলীগ কর্মী হাতে নাতে ধরা পড়ে। আদালত তাকে ১ বছর কারাদন্ড দেয়।

* মাগুরায় বাসে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করতে গিয়ে যুবলীগের ৩ জন নেতা-কর্মী পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়।

* বগুড়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় স্কুলের প্রধান শিক্ষক ধরা পড়ে।

* যশোরের অভয়নগরে সংখ্যলঘুদের উপর সহিংসতা ঘটায় আওয়ামী লীগ। ৫ জানুয়ারীর ভোটার বিহীন নির্বাচনে বিজয়ী এমপি রনজিৎ কুমার রায় বলেছেন সংখ্যালঘুদের উপর হামলা চালিয়েছে তার প্রতিদ্বন্দী আওয়ামী লীগ নেতা শেখ আব্দুল ওহাবের ক্যাডাররা। অথচঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী সৈয়দ আশরাফ ও শিক্ষামন্ত্রী এই ঘটনা জামায়াত শিবির ঘটিয়েছে বলে ঘোষণা করেছেন এবং কতিপয় পত্রিকায় সরকারের এই বক্তব্য প্রচারিত হয়েছে।

এ সরকারের আমলে রামুসহ কক্সবাজারের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের উপর ও তাদের উপসনালয়ে হামলা চালায় যুবলীগ।

এ সরকারের আমলে বিশেষ করে প্রহসনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জনগণের শন্তিপূর্ণ আন্দোলনে সরকার বেসামাল হয়ে, বেপরোয়াভাবে সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ চালাচ্ছে। এসব ঘটনার সাথে সরাসরি সরকার সম্পৃক্ত থাকায় কোন প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। আওয়ামী সরকারের মিথ্যা প্রচারণা ও নোংরা রাজনৈতিক খেলার নির্মম শিকার হচ্ছেন আমাদের দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়।

আমরা ৭ জানুয়ারী সংবাদপত্রে প্রদত্ত বিবৃতির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সংখ্যালঘুদের উপর হামলাসহ চলমান সহিংসতা, ভাংচুর ও জালাও, পোড়াওয়ের ঘটনার উদ্বেগ প্রকাশ এবং নিন্দা জ্ঞাপন করে ও বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনের মাধ্যমে ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছি এবং এ ব্যাপারে জামায়াতের পক্ষ থেকে সকল ধরণের সহযোগীতারও আমরা ঘোষণা দিয়েছি। আমাদের এ বক্তব্য ৮ জানুয়ারী বিভিন্ন সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। কিন্তু সরকার তা অগ্রাহ্য করে নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য এসব ন্যাক্কার জনক ঘটনা অব্যাহতভাবে ঘটিয়ে যাচ্ছে। সরকার নিজেই যেখানে হিংসাত্মক ঘটনা সংঘটিত করছে সেখানে জনগণ অসহায়।

এমতাবস্থায় প্রকৃত সত্য উৎঘাটন এবং সংখ্যালঘুসহ চলমান সহিংসতা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা বন্ধ করার জন্য আমরা জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি। এ ব্যাপারে আমরা জাতিসংঘের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি। এ ধরণের তদন্ত কমিশনকে বাংলাদেশের হিংসাত্মক কর্মকান্ডের বিস্তারিত তথ্য ও বিবরণ দিয়ে তদন্তকার্যে সহযোগীতার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত রয়েছি।

আমরা সুস্পষ্ট ভাষায় আবারো ঘোষণা করছি, জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের কোন সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ এ তদন্তের মাধ্যমে পাওয়া গেলে আমরা দলীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনকে সব ধরণের সহযোগীতা করতে প্রস্তুত রয়েছি। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়ীঘর, ধর্মীয় উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।

আমরা অবিলম্বে সংখ্যলঘুদের জান-মাল, উপসনালয় নিয়ে নোংরা রাজনৈতিক খেলা বন্ধ করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি এবং সকল ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত মোকাবেলা করে এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য সর্বস্তরের জনতার প্রতি এবং প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের মাধ্যমে তাদের রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি।

আশাকরি গঠনমূলক ও স্বাভাবিক নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনায় সর্বাগ্রে সরকার ও সকল রাজনৈতিক দল আন্তরিকভাবে প্রচেষ্টা চালাবেন।”

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর পরিকল্পিত হামলা হচ্ছে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ অব্যাহত থাকবে : ফখরুল

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর পরিকল্পিত হামলা হচ্ছে
অনির্দিষ্টকালের অবরোধ অব্যাহত থাকবে : ফখরুল

দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা করা হচ্ছে অভিযোগ করে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ অব্যহত রাখতে দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ বুধবার গণমাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি একথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, চলমান গণআন্দোলনকে কলুষিত করতেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা করা হচ্ছে। কিন্তু অপপ্রচার চালিয়ে কোনোভাবেই গণআন্দোলনকে কলুষিত করা যাবে না। সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা মোকাবিলায় ১৮ দলের নেতাকর্মীদের সজাগ থাকারও আহ্বান জানান তিনি।
মির্জা ফখরুল গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে পাতানো, প্রহসনমূলক ও দেশ-বিদেশে গ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে বলেন, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে। দেশব্যাপী যৌথবাহিনী দিয়ে বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের বাড়িঘর লুটপাট, অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি সন্ত্রাসী কর্তৃক সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও নির্যাতন নিপীড়ণের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, প্রহসনের নির্বাচনে নিজেদেরকে বিজয়ী ঘোষণা করে বর্তমান অবৈধ আওয়ামী লীগ সরকার আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে ফ্যাসিবাদী কায়দায় বিরোধী দল নিধনের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশকে এক চরম নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
৫ জানুয়ারির পাতানো নির্বাচনে ভোটারদের অনুপস্থিতি ও দেশবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত বর্জন এবং দেশ-বিদেশে বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সংস্থার প্রবল সমালোচনার মুখে জনদৃষ্টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য যশোর, রংপুর, ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর সহ দেশব্যাপী সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর পরিকল্পিত হামলা করা হচ্ছে বলে মনে করেন মির্জা ফখরুল।
তিনি বলেন, গত মঙ্গলবার যৌথবাহিনী দিয়ে সারাদেশে বিরোধী দলের প্রায় তিন শতাধিত নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার এবং যৌথবাহিনী ও তাদের সহায়তায় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীদের বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেছে। নিজেদের লোকদের দিয়ে স্কুলঘর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পোড়ানো হয়েছে। আর এর দায় চাপানো হচ্ছে বিরোধী দলের ওপর।
বিএনপির এ নেতা বলেন, সরকারের কোনো ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার ও অপকৌশল তীব্র গণআন্দোলনকে কোনোভাবেই কলুষিত করে স্তব্ধ করা যাবেনা। জনতার যৌক্তিক দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সব ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে জনগণ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর।
তিনি আরো বলেন, সব ধর্ম, বর্ণ ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর যেকোনো হামলা মোকাবেলায় ১৮ দলীয় জোটের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী ও দেশবাসীকে সদা সতর্ক থাকার এবং তাদের নিরাপত্তা বিধানে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে আহবান জানাচ্ছি। পাশাপাশি এ সমস্ত অপ্রীতিকর ও অমানবিক ঘটনার সাথে জড়িত প্রকৃত দোষীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব চলমান গণআন্দোলনের অংশ হিসেবে লাগাতার অনির্দিষ্টকালের রাজপথ, রেলপথ ও নৌপথ অবরোধ কর্মসুচি শান্তিপূর্ণভাবে চালিয়ে যাওয়ার জন্য ১৮ দলীয় জোট নেতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে ১৮ দলীয় জোটের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মী ও দেশবাসীকে উদাত্ত আহবান জানান।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক মো. আব্দুল লতিফ জনি।

আবারো প্রমান হলো আওয়ামী লীগই সারা দেশে সাম্প্রদায়ীক বর্বর হামলা চালাচ্ছে!

আবারো প্রমান হলো আওয়ামী লীগই সারা দেশে সাম্প্রদায়ীক বর্বর হামলা চালাচ্ছে!
═════════════════════════════════════════
❑ নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ায় যশোরে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর নৃশংস হামলা চালিয়েছিল পরাজিত আওয়ামী লীগ নেতা!

◆ নির্বাচনের আগেই হুমকি দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা হুইপ ওহাবঃ
------------------------------------------------------------------------
নির্বাচনের আগেই যশোরের চাপাতলা মালোপাড়ার বাসিন্দাদের দেখে নেয়ার হুমকি দিয়েছিলেন হুইপ অধ্যক্ষ আব্দুল ওহাব। নির্বাচনে নৌকার বাইরে বের হতে না পারলে পরিণাম ভাল হবে না বলে শাসিয়েছিলেন সংখ্যালঘুদের।
তিনি তাদের বলেছিলেন, "তিনি এখনও আওয়ামী লীগে আছেন, ভবিষ্যতেও থাকবেন। দল তাকে বহিষ্কার করেনি। ফলে এবারের সংসদ নির্বাচনে তিনি নৌকা প্রতীক না পাওয়ায় সংখ্যালঘুরা যদি ভেবে থাকেন ওহাব আর আওয়ামী লীগে নেই, তার ক্ষমতা দুর্বল হয়ে গেছে, তাহলে তারা ভুল করবেন। নৌকার প্রার্থী রণজিৎ রায় আপনাদের স্বজাতি হওয়ায় যদি ভাবেন তাকে ছাড়া আপনারা অন্য কাউকে ভোট দেবেন না তাহলে ভুল করবেন। ভোটের পরে এর জন্য আপনাদের খেসারত দিতে হবে। 
হিন্দু সমপ্রদায়ের নেতৃস্থানীয়দের উদ্দেশ্য করে হুইপ ওহাব বলেছিলেন, "আপনারা সামপ্রদায়িকতা থেকে বের হতে পারবেন না, আর আমার কাছে অসাম্প্রদায়িক মানসিকতা আশা করবেন- সেটা হবে না। আপনাদের কর্মকাণ্ডের ওপর নির্ভর করছে ভোটের পরে আমি অসাম্প্রদায়িক থাকবো না সাম্প্রদায়িক আচার-আচরণ করবো। এদেশের জামায়াত-শিবির শুধু সাম্প্রদায়িকতা লালন করে সেটা ঠিক নয়, এদেশের সংখ্যালঘুরাও সাম্প্রদায়িক।"

নির্বাচনের ৫ দিন আগে চাপাতলার পাশেই সুন্দলী প্রাইমারি স্কুল মাঠে নির্বাচনী জনসভায় হুইপ শেখ আব্দুল ওহাব এসব কথা বলেছিলেন। ওই জনসভায় উপস্থিত ছিলেন এমন অনেকেই এ কথা বলেছেন। নিজের বাহিনী লেলিয়ে দিয়ে এই পাড়ার ৪/৫শ’ পরিবারকে ওহাব বুঝিয়ে দিলেন তার কথা না শোনার পরিণাম। গত ২রা জানুয়ারি নির্বাচনী প্রচারণায় বিদ্রোহী প্রার্থী জাতীয় সংসদে সরকারদলীয় হুইপ অধ্যক্ষ শেখ আব্দুল ওহাব চাপাতলা গ্রামে যান। নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে তিনি এক পর্যায়ে মালোপাড়ায় যান। তিনি এই পাড়ার মন্দিরের সামনের ফাঁকা জায়গায় নির্বাচনী মতবিনিময় সভা করেন। কিন্তু সেই সভায় মালোপাড়ার বেশির ভাগ মানুষ ছিলেন অনুপস্থিত। ওহাবের নির্বাচনী কর্মীরা বহু চেষ্টা তদবির করেও তাদের সভায় হাজির করতে ব্যর্থ হন। 
ক্ষমতায় থেকে এই পাড়ার উন্নয়নে শেখ আব্দুল ওহাব অনেক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড করেছেন। মন্দির করে দিয়েছেন। বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছেন, ইটের রাস্তা করে দিয়েছেন। দিয়েছেন সরকারি বেসরকারি নানা অনুদান। এই পাড়ার মানুষের সঙ্গে তার বহু দিনের সম্পর্ক। কিন্তু শুধুমাত্র নৌকা প্রতীক না পাওয়ার কারণে সেদিনের সেই সভায় এই পাড়ার মানুষ উপস্থিত হননি। এতে ওহাব ক্ষুব্ধ হন। পাড়ার দুলাল বিশ্বাস, বিশ্বজিৎ সরকার, সমীর সরকারের মতো প্রবীণ ব্যক্তিরা ওহাবকে সাফ জানিয়ে দেন, তারা রণজিৎ রায়ের মার্কা নৌকার বাইরে ভোট দিতে পারবেন না। দীর্ঘ দিনের পরিচিত দুলাল, বিশ্বজিৎ আর সমীর সরকারদের তখন ওহাব বলেন, দেখ আমার কাজ আমি করেছি, এবার তোমাদের পালা। তোমরা যদি স্বজাতির টানে আমাকে বিমুখ করো তাহলে তার পরিণাম তোমরা ভোগ করবে, তখন আমার কিছুই করার থাকবে না। 
ঘটেছেও তাই। ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন শেষ হতে না হতেই সে মূল্য দিতে হয়েছে এ পাড়ার মানুষদের। নির্বাচনে পরাজয়ের গ্লানি মুছতে না পেরে তার বদলা নিয়েছে ওহাবের ক্যাডার বাহিনী। হামলাকারীরা সকলেই স্থানীয় এবং তাদের সবাই চেনে। হামলার শিকার অনেকে হামলার পর পরই তাদের নাম-পরিচয়ও বলেছে। 
এই পাড়ার বাসিন্দা সুকদেব কুমার বলেন, হামলাকারীদের বেশির ভাগই ওহাবের কর্মী-সমর্থক। হামলাকারীরা একযোগে মালোপাড়ার বিশ্বজিৎ, দুলাল, সমীর, দেবাংশু, সুকুমার, স্মরজিৎ, আশুতোষ, শান্ত, নিমাই, বিপ্লব, অরুণ, শংকর, শিমুল, সুমন, প্রবীর, কৃষ্ণ, অর্ধেন্দু, সাগর, সীমান্ত, প্রদীপসহ অনেকের শতাধিক বাড়িতে আক্রমণ শুরু করে। তারা বাড়িঘর ভাঙচুরের পাশাপাশি জিনিসপত্রে অগ্নিসংযোগ করে। ঘরের চাল, ডাল, ধান সব মিশিয়ে একাকার করে বাইরে ছুড়ে ফেলে। রান্নাঘরগুলোতে ঢুকে থালাবাটি, হাঁড়িপাতিল ভেঙে চুরমার করে। লেপ-তোষক থেকে শুরু করে ঘরের ভেতরের সব জিনিসপত্র পুড়িয়ে ফেলে। জেলে সম্প্রদায়ের এই পাড়ায় আগুনে পুড়েছে কয়েক লাখ টাকার জাল। হামলার শিকার হয়েছে কয়েক শ’ নারী-পুরুষ। হামলাকারীদের তাণ্ডবে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পাশের ভৈরব নদ পেরিয়ে কয়েক শ’ নারী-পুরুষ ও শিশু ওই রাতেই আশ্রয় নেয় পাশের দেয়াপাড়া গ্রামে। তিন দফার এই হামলায় গোটা মালোপাড়া গ্রামটি লণ্ডভণ্ড হলেও স্থানীয় প্রশাসন বা সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের কোন সাহায্য না পেয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই পাড়ার বাসিন্দারা। পঞ্চাশোর্ধ্ব বিষ্ণুপদ সরকার বলেন, যখন হামলাকারীরা গ্রামে তাণ্ডব চালাচ্ছে তখন আমরা স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও পুলিশ প্রশাসনকে বার বার খবর দিয়েছি। থানার ওসিকে ফোন করেছি। কিন্তু কারও কোন সাড়া পাইনি। যদি খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ প্রশাসন ও সরকারি দলের নেতারা ঘটনাস্থলে আসতেন তবে পরিস্থিতি হয়তো এতটা খারাপ হতো না।
এদিকে এই হামলার ঘটনা নিয়ে রাজনীতির নোংরা খেলা হচ্ছে অভিযোগ করে ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষ থেকে কোন মামলার উদ্যোগ নেয়া হয়নি বলে দাবি করেন এই পাড়ার মাতব্বর দেবাংশু সরকার।
❑ ৩শ’ জনের বিরুদ্ধে মামলা: 

এদিকে এই হামলার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে এলাকার ৩৯ জনের নাম-ঠিকানা উল্লেখসহ ৩শ’ জনকে আসামি করে মামলা করেছে। অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইমদাদ হোসেন জানান, মামলায় যাদের নাম-ঠিকানা পরিচয় উল্লেখ করা হয়েছে তাদের বেশির ভাগ স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এছাড়া, নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী অধ্যক্ষ শেখ আব্দুল ওহাবের বেশ কয়েকজন কর্মী-সমর্থকেরও নাম রয়েছে ওই মামলার এজাহারে। ওসি বলেন- মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের আটকে পুলিশ কম্বিং অপারেশন চালাচ্ছে।
৫ জন আটক: পুলিশ বাদী মামলার এজাহারভুক্ত ৫ আসামিকে আটক করেছে অভয়নগর থানা পুলিশ। গতকাল বিশেষ অভিযান চালিয়ে মামলার আসামি বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের হাদিউজ্জামান, মোহাম্মদ আলী, চাপাতলা গ্রামের রবিউল, তরিকুল ও আবু সাঈদকে আটক করে পুলিশ। এদের মধ্যে রবিউল ও তরিকুল নির্বাচনে শেখ আব্দুল ওহাবের সক্রিয় নির্বাচনী কর্মী ছিল। 


❑ ১৮ দলের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ:
---------------------------------------
অভয়নগরে হিন্দু সমপ্রদায়ের বাড়িঘরে হামলার ঘটনায় পুলিশ ১৮ দলের নেতা-কর্মীদের দায়ী করায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ। গতকাল দুপুরে যশোর প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, অভয়নগরে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য রণজিৎ রায় নিজে বলেছেন, এ হামলার জন্য তার প্রতিপক্ষ বর্তমান জাতীয় সংসদের হুইপ আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যক্ষ শেখ আব্দুল ওহাবের প্ররোচনা ও তার কর্মী-সমর্থকদের দ্বারা এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দাবি করেন, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে পরাজিত হয়ে হুইপ শেখ আব্দুল ওহাবের লোকজনই এ হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। সবকিছু জানার পরও পুলিশ এ ঘটনায় ১৮ দলের নেতা-কর্মীদের জড়িত করে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের ও গ্রেপ্তার করছে। তিনি এই হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানান এবং প্রকৃত হামলাকারীদের আটক ও বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান। একই সঙ্গে এই ঘটনাকে যারা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে ১৮ দলের নেতাকর্মীদের হয়রানি করছেন তাদের মুখোশ উন্মোচন করার জন্য মিডিয়া কর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেন।

❑ অভয়নগরে জামায়াত নেতার বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট:
-------------------------------------------------------------
নির্বাচনোত্তর সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে যশোরের অভয়নগর উপজেলার জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুল আজিজসহ বিএনপি নেতা ও সমর্থকদের বাড়িঘরে মঙ্গলবার ভোর রাতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। যৌথবাহিনীর উপস্থিতিতে রাতের আঁধারে সন্ত্রাসীরা এ হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ করেছেন। এসময় সন্ত্রাসীরা ঘরে থাকা পবিত্র কোরআন ও হাদিস শরীফের বেশ কয়েকটি খণ্ড তছনছ করে। লণ্ডভণ্ড করে দেয় বাড়ির সকল আসবাবপত্র। এসব অভিযানের সময় জামায়াত, বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িতদের বাড়িতে না পেয়ে ঘরবাড়ি ও ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটানো হয়। এলাকাবাসী ও ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, গতকাল ভোর রাতে যৌথবাহিনী বালিয়াডাঙ্গা ও চাপাতলা গ্রামে অভিযান চালায়। এসময় তাদের সঙ্গে ছিল স্থানীয় আওয়ামী লীগের কিছু সশস্ত্র নেতাকর্মী। অভিযানের সময় জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়ি না পেয়ে যৌথবাহিনী ফিরে যায়। কিন্তু আওয়ামী লীগের সশস্ত্রকর্মীরা ফেরেনি। তারা ওই সব বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র লুটপাট, ভাঙচুর ও তছনছ করে। এ সময় উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল আজিজের বাড়িতে ব্যাপক লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সন্ত্রাসীরা এখান থেকে ৫টি সিলিং ফ্যান, একটি ল্যাপটপ, একটি ডেক্সটপ কম্পিউটারের সিপিইউ, একটি ফ্রিজ, স্বর্ণালঙ্কারসহ নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এসময় জামায়াতের আমীর মাওলানা অধ্যক্ষ আব্দুল আজিজ ও তার ছেলে থানা শিবিরের সভাপতি মাহফুজুর রহমান বাড়িতে ছিলেন না। এছাড়া একই সময় ওই গ্রামের ডা. সোহরাব হোসেন, আয়ুব আলী, চাপাতলা মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা ইউসুফ আলী, বিএনপি নেতা গোলাম কিবরিয়া, মিজানুর রহমান, জামায়াত নেতা ও ইউপি সদস্য আবুল কাশেম মোল্যাসহ ১০-১২টি বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। ভাঙচুর, লুটপাট ও অভিযানের সময় পুরুষশূন্য ওই এলাকায় মহিলারা চরম আতঙ্কিত হয়ে বাড়িঘর ফেলে অন্যত্র গিয়ে আশ্রয় নেয়।

❑ এ বিষয়ে হুইপ অধ্যক্ষ শেখ আব্দুল ওহাব বলেন, যারা এই ধরনের কথা প্রচার করছে তারা নিজেদের অতীত ভুলে গেছে। নির্বাচনে জয় পরাজয় থাকবে। আজ যারা আমাকে ভোট দেয়নি, আগামীতে যে তারা অন্যকে ভোট দেবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই। তাছাড়া কারা কিভাবে এই হামলা চালিয়েছে তা আমার জানা নেই। তিনি এই হামলার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে আটকের দাবি জানান।
এদিকে চাপাতলার মালোপাড়ায় সন্ত্রাসী হামলার বিষয়ে স্থানীয় নবনির্বাচিত এমপি রনজিত রায় বলেন, "যারা নির্বাচনে পরাজয়ের গ্লানি সহ্য করতে পারেনি তারাই এ হামলার পেছনে ইন্ধন যুগিয়েছে। তারা তাদের পোষ্য গুণ্ডাবাহিনী লেলিয়ে দিয়ে মালোপাড়ার কয়েকশ’ জেলে পরিবারের উপর যে সন্ত্রাসী তাণ্ডব চালিয়েছে তা বর্ণনাতীত।"

আমরা অনেক কিছুই দেখেছি। দেখেছি রাজিবের খুন। দোষ সোজা জামাত শিবিরের। তাদের নিষিদ্ধ করা দরকার। কিন্তু তারপর? যখন প্রমাণ হল যে এইটা প্রেমঘটিত সমস্যা, সবাই চুপ।

আমরা অনেক কিছুই দেখেছি।
দেখেছি রাজিবের খুন। দোষ সোজা জামাত শিবিরের। তাদের নিষিদ্ধ করা দরকার। কিন্তু তারপর? যখন প্রমাণ হল যে এইটা প্রেমঘটিত সমস্যা, সবাই চুপ।

দেখেছি 'দুর্ধর্ষ শিবির ক্যাডার' বিশ্বজিতের হত্যা। অপরাধীরা কেউই নাকি ছাত্রলীগের কেউ না।

দেখেছি ত্বকীর খুন। সব দোষ শিবিরের। শাহবাগের নারায়নগঞ্জ শাখার মূল উদ্যোক্তা রাফির ছেলে হওয়াতেই নাকি তাকে খুন করা হয়েছে। এরপর? শামীম উসমানের দিকে আঙ্গুল উঠার পর সবাই চুপ।

দেখেছি আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের ভাই মেরাজ খুন। এইখানেও আঙ্গুল প্রথমে জামাত শিবিরের দিকে। তারপর? ছিনতাই কারীর হাতে খুন হওয়ার বিষয় জানার পরে, এইখানেও সবাই চুপ।

এইরকম আলোচিত প্রায় সব হত্যাকাণ্ডের দোষ প্রথমে জামাত শিবিরের ঘাড়ে। আসল ঘটনা বের হলে সবাই চুপ। মানবাধিকার ব্যবসায়ীরা বসে থাকেন জামাত শিবিরের ঘাড়ে দোষ চাপানোর জন্য।

এইসব থেকেই প্রমাণিত হয়, আসলে কারা কি করছে। কারো কারো কাছে নাকি তথ্য আছে। কি তথ্য আছে, এই তথ্যের উৎস কি, তা নিয়ে আর কিছু বলতে ইচ্ছে করছে না।

বাকী মন্তব্যের আগে কিছু খবরের শিরোনাম দেখা যাক আগে-

১) ০১ জানুয়ারি, ২০১৪
বাসে পেট্রল ছুড়ে আগুন দেওয়ার চেষ্টা, ছাত্রলীগের ৩ নেতা-কর্মী আটকhttp://www.kalerkantho.com/online/country-news/2014/01/01/37103#sthash.iCqSCWVJ.dpuf

২) ৩ জানুয়ারী, ২০১৪
অবরোধের সময় পুঠিয়ায় সড়ক ডাকাতি করতে গিয়ে ছাত্রলীগ কর্মী আটক
http://www.deshsangbad24.com/অবরোধের-সময়-পুঠিয়ায়-সড়ক-ড/

৩) ৩০ নভেম্বর ২০১৩
ককটেল বিস্ফোরণের সময় বাগেরহাটে দুই ছাত্রলীগ কর্মী আটক
http://bartalive24.com/bangladesh-news/14786-2013-12-01-14-11-45

৪) ১৫ ডিসেম্বর ২০১৩
বিচারপতি ও সংখ্যালঘুদের বাড়িতে আওয়ামী লীগ কর্মীদের হামলা, আটক ৪
http://bangla.irib.ir/2010-04-21-08-29-09/item/56586-বিচারপতি-ও-সংখ্যালঘুদের-বাড়িতে-আওয়ামী-লীগ-কর্মীদের-হামলা,-আটক-৪

৫) ১৬-১২-২০১৩
দেবহাটায় হিন্দু বাড়িতে যুবলীগ সন্ত্রাসীদের আগুন
http://loksamaj.com/index.php?action=page&categoryid=21&postid=33401#.UswQAtIW1ZE

৬) ২৩ ডিসেম্বর ২০১৩
পিকেটার সেজে চাঁদাবাজির সময় ছাত্রলীগ কর্মী আটক
http://www.bd-pratidin.com/2013/12/23/33761

৭) ৪ জানুয়ারী ২০১৪
স্কুলে আগুন দেয়া ঠেকান: নাহিদ
তিনি বলেন, “স্কুলগুলোতে আগুন দিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংসের মধ্য দিয়ে তারা স্বাধীনতা যুদ্ধে পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে চায়।”
http://bangla.bdnews24.com/bangladesh/article724381.bdnews
এইবার আজকের দুটি সংবাদের দিকে দৃষ্টি দেয়া যাক

স্কুলে আগুন লাগাতে গিয়ে ধরা খেলেন প্রধান শিক্ষক
জামায়াত-শিবিরের ওপর দোষ চাপাতে নিজের স্কুলে নিজেই আগুন দিয়ে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের কর্মী বগুড়ার এক প্রধান শিক্ষক। স্কুলের দফতরি বাবুল হোসেন জানান, প্রধান শিক্ষক আবদুল মান্নান বগুড়া সদরের কলোনী এলাকার বাসিন্দা এবং বগুড়া পৌরসভার ১২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কর্মী।
http://www.natunbarta.com/outside-dhaka/2014/01/07/62944/স্কুলে+আগুন+লাগাতে+গিয়ে+ধরা+খেলেন+প্রধান+শিক্ষক

সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছেন সৈয়দ আশরাফ
জামায়াত-বিএনপি সন্ত্রাসীরা সংঘ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা চালাচ্ছে অভিযোগ করে এর প্রতিবাদ জনিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।
http://www.sheershanews.com/2014/01/07/20950

অনেক সংবাদ, লিংক দেয়া হলো। এইবার কাজের কথায় আসি,

১ নাম্বার থেকে ৬ নাম্বার খবরগুলোর খবরগুলোর ব্যাপারে সত্যি করে বলুন তো, যদি এইসব লীগকর্মী ধরা না পড়তো, তাহলে আমাদের মিডিয়া কি বলতো?

একাত্তর, সময়, ইন্ডিপেন্ডেন্ট, এটিএন, চ্যানেল আই, প্রথম আলো, যুগান্তর থেকে শুরু করে অন্তত ৮০% এর বেশি মিডিয়া বলতো যে এইসব জামাত শিবিরের কাজ। সাম্প্রদায়িক হামলা (আসলে হামলার কারণ কি সাম্প্রদায়িক বা ধর্মীয়, নাকি রাজনৈতিক তা নিয়ে কিন্তু কারো মাথাব্যথা নেই), বাসে আগুন, ককটেল বিস্ফোরণ ইত্যাদি ইত্যাদি সব নাকি জামাত শিবিরের কাজ।

নিজেদের দলের লোকজন হিন্দু বাড়িতে, মন্দিরে হামলা করছে আর আশরাফ সাহেব বলছেন সব দোষ বিএনপি আর জামাত শিবিরের। অবশ্য উনার কথায় কিছু মনে করার নাই। কারণ উনিই তো বলেছিলেন, সুপ্রীমকোর্টে নাকি বিএনপি-জামাত হামলা করেছিল গত ২৯ ডিসেম্বর'১৩। সো উনাকে কি উপাধি দেয়া যায় তা আপনারাই বলেন।

এর পরে আসুন আমাদের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী (সরকারী উদ্যোগে প্রশ্ন ফাঁসের জন্য জাতি উনাকে চিরদিন মনে রাখবে) সাহেবের কথায়। “স্কুলগুলোতে আগুন দিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংসের মধ্য দিয়ে তারা স্বাধীনতা যুদ্ধে পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে চায়।” কাহিনী কি? আজতো আওয়ামী লীগের এক কর্মী তার নিজের স্কুলে আগুন দিল। তাহলে কি আওয়ামী লীগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংস করতে চায়?

যদি কোন অপরাধের ক্ষেত্রে ঘটনাস্থলেই অপরাধী হাতে নাতে ধরা না পড়ে, তাহলে আমাদের মিডিয়া, মন্ত্রী, এমপি এবং চুশীল সমাজের দৃষ্টিতে অপরাধী হচ্ছে জামাত শিবির। তদন্ত করবে দূরের কথা, আগে স্থানিয় জামাত-শিবিরের বেশ ক'জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হবে।

অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, আমি হঠাৎ এইভাবে জামাত শিবিরের দালালি শুরু করলাম কেন। মজলুমের পাশে দাঁড়ানো প্রতিটি মুসলমানের জন্য ফরজ। বর্তমান বাংলাদেশে জামাত শিবির যে মজলুম, তা নিয়ে পাগলও বিতর্ক করতে আসবে না। অন্তত উপরের ঘটনা গুলো প্রমান করে যে জামাত শিবির মজলু কি না।

আমি সবসময় সত্যের পক্ষে, মজলুমের পক্ষে থাকার চেষ্টা করি এবং থাকবো ইনশাআল্লাহ্‌।

আল্লাহ আমাদের সঠিক বিষয়টি বুঝার তাওফিক দিন।
আমীন।