Sunday, January 5, 2014

নির্বাচন প্রত্যাখ্যান, সরকারের পদত্যাগ দাবি বিএনপির

একতরফা নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে অবিলম্বে সরকারের পদত্যাগ দাবি করেছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। একই সাথে দলটি ঘোষণা করেছে, সরকারের পতনের লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।
গতকাল সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ওসমান ফারুক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা জনগণকে ভোটকেন্দ্রে  যাওয়ার যে আহ্বান জানিয়েছিলেন, আজ জনগণ তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছেন। মানুষজন ভোটকেন্দ্রগুলোতে যাননি, ভোটও পড়েনি। দেশের মানুষ এর মাধ্যমে সরকারের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেছেন।
দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয় ও নয়া পল্টনের কার্যালয় পুলিশ অবরুদ্ধ করে রাখায় গুলশানে নিজ বাসায় ওসমান ফারুক এ সংবাদ সম্মেলন করেন।
ভোটার উপস্থিতিকে নগণ্য উল্লেøøখ করে তিনি বলেন,  গণমাধ্যমের তথ্যচিত্র এবং সারা দেশে আমরা খোঁজখবর নিয়ে দেখেছি, গড়ে তিন থেকে পাঁচ শতাংশের বেশি ভোটার ভোটকেন্দ্রে যাননি। যদি এই ভোট আদায়ের হারে সরকার মনে করে জনগণ তাদের ম্যান্ডেট দিয়েছে, তা হলে তারা বোকার স্বর্গে বাস করবে।
ওসমান ফারুক বলেন,  আমরা এই প্রহসনের নির্বাচনের ফলাফল মানি না। এই নির্বাচনের ফলাফল অবিলম্বে বাতিল করে সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে।
ভারতের এনডিটিভি’র সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, নির্বাচন কমিশন বলেছেন, ৬২ শতাংশ ভোট পড়েছে। এ ব্যাপারে আপনাদের প্রতিক্রিয়া কী? জবাবে সাবেক মন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশন একটি পুতুল। ওই কমিশনের এই ফলাফল  কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই রকম একটি নির্বাচনের জন্য বশংবদ মেরুদণ্ডহীন নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ করা উচিত। 
ওসমান ফারুক বলেন, বিরোধী দলের ডাকে ভোট বর্জনের মাধ্যমে জনগণ সরকারের বাকশালী আচরণের  দাঁতভাঙা জবাব দিয়েছেন। এই প্রহসনের নির্বাচন দেশের মানুষ প্রত্যাখ্যান করায় সরকার সম্পূর্ণভাবে অবৈধ হয়ে গেছে।  একই সাথে এই প্রহসনের নির্বাচনের ফলাফলে নির্দলীয় সরকারের দাবির আন্দোলন আরো সুদৃঢ় হয়েছে বলে আমরা মনে করি।
তিনি বলেন, আমরা সরকারকে বলে দিতে চাই, প্রহসনের নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে সংলাপে বসুন। আপনারা পদত্যাগ করে নির্দলীয় সরকারের কাছে ক্ষমতা ছেড়ে দিন। জাতিকে সঙ্ঘাত ও অনিশ্চয়তার অন্ধকার থেকে শান্তির পথে আসতে সহায়তা করুন। অন্যথায় ইতিহাস আপনাদের কোনো দিনই ক্ষমা করবে না।
ওসমান ফারুক বলেন, সরকার বলেছে, এই নির্বাচনে শৈত্যপ্রবাহের জন্য পর্যাপ্ত ভোটার আসতে পারেনি। আমরা বলতে চাই, ভোটারবিহীন নির্বাচনে শৈত্যপ্রবাহে এই মৃত সরকারকে জনগণ হিমাগারে পাঠিয়ে দিয়েছে। এই সরকারের প্রতি জনগণের সমর্থন নেই। তারা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গুণ্ডাবাহিনীর ওপর নির্ভর করে তারা টিকে আছে। এই গণবিচ্ছিন্ন সরকারের পতন অনিবার্য।
তিনি দাবি করেন, ভোটের দিন যৌথবাহিনী ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের হামলায় সারা দেশে ২২ জনের অধিক নেতাকর্মীকে নিমর্মভাবে হত্যা ও শত শত নেতাকর্মীকে আহত করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে দলের সহদফতর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি, শামীমুর রহমান শামীম, আসাদুল করিম শাহিন, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, নির্বাহী কমিটির সদস্য রফিক শিকদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
৪ শতাংশ ভোট পড়েছে : মঈন খান 
নির্বাচনে সর্বোচ্চ চার শতাংশ ভোট পড়েছেÑ এমন দাবি করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, প্রহসনের নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে জনগণ প্রমাণ করেছে দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়।
গতকাল বিকেলে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে তার গুলশানের বাসায় এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন। 

No comments:

Post a Comment