দশম জাতীয় সংসদের ১৪৭টি আসনে গতকালের ভোটারবিহীন নির্বাচনে ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। বিরোধী দলের প্রতিরোধের মুখে ব্যাপক সংঘর্ষে ও নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নির্বাচন কর্মকর্তা, আনসার সদস্য ও ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীসহ ২৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কয়েক শ’। অনেক কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়। বহু কেন্দ্রে একটি ভোটও পড়েনি। অনেক আসনে সরকারি প্রার্থীর সমর্থকদের জালভোট দিতে দেখা গেছে।
ঠাকুরগাঁওয়ে ১ আসনে ৫ জন নিহত
ঠাকুরগাঁও : রোববার দুপুরে সদর উপজেলার খোঁচাবাড়ি বাসুদেবপুরে নির্বাচন প্রতিরোধকালে পুলিশের গুলিতে জয়নাল আবেদিন (৩০), হারুন (৪৫) এবং গড়েয়া গোপালপুরে আবু হানিফ (৩২), লুৎফর রহমানসহ (৪৫) চারজন ১৮ দলীয় সমর্থক নিহত হয়েছেন। এর আগে শনিবার রাতে উপজেলার রায়পুরে একটি কেন্দ্রে নির্বাচন বিরোধীদের হামলায় একজন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার নিহত হন।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে সদর উপজেলার রায়পুরে ছেতরিকুঁড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে শনিবার রাত সাড়ে ১১টায় হামলা চালালে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার জোবায়দুল হক (৪৮) নিহত হন। তিনি শহরের সালন্দর কলেজের প্রদর্শক। শহরের ঘোষ পাড়া মহল্লার বাসিন্দা।
অন্য দিকে গভীর রাতে আরজী ঝাড়গাঁও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার রেজাউল করিম পেট্্রলবোমার আঘাতে গুরুতর আহত হন। এ সময় আরো তিনজন আহত হয়। তাদের সবাইকে আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দিনাজপুরে নিহত ৪ : জেলায় আজ অর্ধদিবস হরতাল দিনাজপুরে দুপুর ১২টার মধ্যেই জেলার আড়াই শ’ ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তারা কেন্দ্র গুটিয়ে নেন এবং প্রিজাইডিং অফিসারসহ অন্যান্য কর্মকর্তা নিরুদ্দেশ হয়ে যান। শনিবার রাত থেকে রোববার বেলা বাড়ার সাথে সাথে এ অবস্থা দেখা যায়। জেলার বেশির ভাগ ভোটকেন্দ্র জ্বালিয়ে দেয় ভোট বর্জনকারী বিুব্ধ জনতা। ভোটকেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় পৃথক পৃথক সংঘর্ষে দিনাজপুরে এ পর্যন্ত এক আনসার সদস্যসহ চারজন নিহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক ব্যক্তি। জাগপা নেতা রায়হান মাসুদের হত্যার প্রতিবাদে আজ অর্ধদিবস হরতাল আহ্বান করেছে দিনাজপুর জেলা জাগপা।
গতকাল রোববার দুপুরে ভোট গ্রহণ চলাকালে পার্বতীপুর উপজেলার উত্তর সালন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনবিরোধীদের হামলায় ঘটনাস্থলেই আব্দুল ওয়াহেদ নামে এক আনসার সদস্যের মৃত্যু হয়। এ সময় আহত হন পুলিশ সদস্য সাইদুর রহমানসহ আরো পাঁচজন। নিহত আনসার সদস্য আব্দুল ওয়াহেদ পার্বতীপুর উপজেলার মন্মথপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের বাংরুর ছেলে। এর আগে সকাল ১১টায় পার্বতীপুর উপজেলার মন্মথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীর গুলিতে পার্বতীপুর যুব জাগপার সাধারণ সম্পাদক রায়হান মাসুদ (৩৫) নিহত হয়েছেন। প্রত্যদর্শীরা জানান, নির্বাচন বর্জনকারী বিুব্ধ জনতা ভোটকেন্দ্রে হামলা করলে আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীর সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ গুলি ছুড়লে রায়হান মাসুদসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হন। আহতদের রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে রায়হান মাসুদের মৃত্যু হয়। রায়হান মাসুদ পার্বতীপুর উপজেলার মন্মথপুর ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের পুলিশ কর্মকর্তা গোলাম রসুলের ছেলে। অন্য দিকে একই উপজেলার ঘোড়াখাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় যুবদল কর্মী চুন্নুসহ কমপে ১০ জন আহত হন। আহতদের স্থানীয় ল্যাম্প হাসপাতালে নেয়ার পথে চুন্নুর মৃত্যু হয়। জাগপা নেতা রায়হান মাসুদের হত্যার প্রতিবাদে সোমবার অর্ধদিবস (সকাল ৬টা-দুপুর ২টা) হরতাল আহ্বান করেছে দিনাজপুর জেলা জাগপা। জেলা যুব জাগপার সভাপতি ইমরুল কায়েস রূপম এক বার্তায় এ হরতালের ডাক দেন।
নীলফামারীতে দুই জামায়াতকর্মী নিহত
রোববার ভোর রাতে ও সকালে যৌথবাহিনীর গুলিতে নীলফামারীতে দুই জামায়াতকর্মী নিহত ও দুই পুলিশসহ ১০ আহত হয়েছে। নিহত জামায়াত কর্মীরা হলো ডিমলা উপজেলার খালিচা চাপানি গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম ও জলঢাকা উপজেলার কইমারী ইউনিয়নের গাবরোল কাচারী গ্রামের মমতাজ উদ্দীন।
এলাকাবাসী সূত্র মতে, ডিমলা উপজেলার খালিশা চাপানী ব্যাপারীটোলা আলিম মাদরাসা ভোটকেন্দ্রে রোববার ভোর রাতে হামলা চালিয়ে আগুন দেয়া হয়। খবর পেয়ে যৌথবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। এ সময় রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা জামায়াতকর্মী জাহাঙ্গীর আলম প্রাণ বাঁচাতে পালানোর সময় যৌথবাহিনীর গুলিতে ঘটনাস্থলে নিহত হয়। অন্য দিকে রোববার সকাল সাড়ে ১০টার সময় জলঢাকা উপজেলার কইমারী ইউনিয়নের বালাপাড়া গাবরোল কাচারী বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ১৮ দলের কর্মীরা একযোগে ঢুকার চেষ্টা করে। এ সময় পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় পুলিশ গুলিবর্ষণ করলে মমতাজ উদ্দীন নামের এক জামায়াতকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যায়। আহত হন ১৮ দলের আরো ১০ নেতাকর্মী। এ দিকে নীলফামারীর দু’টি আসনে ভোট শুরুর আগেই ২৫টি কেন্দ্রে হামলা ও ব্যালট পেপার ছিনতাই ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
ফেনীতে গুলিতে নিহত ২
দাগনভূঞা ও সোনাগাজী (ফেনী) : ফেনী-৩ (দাগনভূঞা-সোনাগাজী) আসনে সকালে ভোট চলাকালীন কেন্দ্র দখল, ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের ঘটনায় যৌথবাহিনীর সাথে সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছে। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে পুলিশসহ ১৭ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন কেন্দ্রে জোর করে ভয়ভীতি দেখিয়ে লাঙ্গল প্রতীকের এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে দরজা বন্ধ করে ব্যালট পেপারে হরিণ প্রতীকের সিল মারার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জাপা প্রার্থীর বাড়িতে বোমা হামলার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। হতাহতের ঘটনা ও কেন্দ্র দখলের কারণে নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় পার্টি প্রার্থী রিন্টু আনোয়ার।
রোববার সকাল ১০টার দিকে সোনাগাজীর চরচান্দিয়া ইউনিয়নের উত্তর চরচান্দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের সময় যৌথবাহিনীর গুলিতে জামসেদ আলম (২৮) ও শহীদ উল্লাহ (২৬) নামে দুই যুবদল কর্মী নিহত হয়েছেন।
নওগাঁয় নিহত ১
নওগাঁও মান্দা : নওগাঁর মান্দা উপজেলার চকদেবিরাম গ্রামে ভোটদানে বাধা প্রদানকে কেন্দ্র করে র্যাব ও পুলিশের সাথে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে বাবুল হোসেন (৩৫) নামে এক বিএনপি কর্মী নিহত হয়েছেন। নিহত বাবুল ওই গ্রামের নজর আলীর ছেলে। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল রোববার দুপুরে। এ ঘটনায় বিএনপির সাত নেতাকর্মী ও দুই পুলিশ সদস্যসহ ৯ জন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন পুলিশ সদস্য বুলবুল হোসেন (২৮), আমিনুল ইসলাম (৪০), বিএনপি কর্মী রহিদুল ইসলাম (৩৮), রাজু আহম্মেদ (১৭), উজ্জ্বল হোসেন (২২), ভুট্টু কারিগর (২৬), রাকিব আহম্মেদ (২৭), জুয়েল রানা (৩২) ও গোলাম রব্বানী (৩০)। ঘটনার পর আহতদের রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিএনপির সব নেতাকর্মী ওই গ্রামের বাসিন্দা।
সুন্দরগঞ্জে নিহত ১
সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) : গাইবান্ধা-১ সুন্দরগঞ্জ আসনে ১০৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪১টি কেন্দ্রে ব্যালট পেপার পৌঁছেনি। ১৯টি ভোটকেন্দ্রের উপকরণ ছিনতাই ও ১৬টিতে অগ্নিসংযোগ হয়েছে। সংঘর্ষে উপজেলার মন্মথ শিমুলতলী গ্রামের জামায়াত-শিবিরকর্মী শাহাবুল (৩৫) নিহত হয়েছেন। উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি শহিদুল ইসলাম মঞ্জু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষে ৫০ জন আহত হয়েছে।
মনিরামপুরে কিশোর নিহত
যশোর : মনিরামপুর উপজেলার বাজিতপুর কেন্দ্রে পুলিশের গুলিতে এক কিশোর নিহত হয়েছে। ৭০টি কেন্দ্রে নিরাপত্তাজনিত কারণে ভোটগ্রহণ সাময়িক বন্ধ থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ায় ৩৫টি কেন্দ্রের নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।
বেলা ২টায় বাজিতপুর কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে পুলিশ গুলি ছোড়ে। এতে বিপ্রকোনা গ্রামের আবদুল মজিদের ছেলে মতিয়ার রহমান (১৮) নিহত হয়।
মনিরামপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের ৪১ ভোট কেন্দ্রে আগুন দেয়া হয়। এ ছাড়া ২৬টি কেন্দ্রের বেলট পেপার ছিনতাই, কেন্দ্রে দায়িত্বরতদের ওপর হামলা প্রভৃতির ঘটনা ঘটে। এসব কেন্দ্রের প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিতরা আহত হয়েছেন। নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ইত্যা কেন্দ্রের নায়েক আলাউদ্দিন ও সাতগাতি কেন্দ্রের তিনজনসহ ১০ জন আহত হন। পুলিশের গাড়িতেও আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুলটিয়া ইউনিয়নের গোপালপুর, পুড়াডাংগা ও ডাংগামহিশদিয়া ভোটকেন্দ্রে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ, ব্যালট পেপার ছিনতাই ও ব্যালট বাক্স ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটেছে।
লালমনিরহাটে নিহত ১
লালমনিরহাট ও পাটগ্রাম : লালমনিরহাটে ভোটকেন্দ্র ও পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ব্যাপক হারে জাল ভোটের পাশাপাশি ব্যালট পেপার ও পুলিশের অস্ত্র ছিনতাইয়ের মধ্য দিয়ে রোববার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ দিকে পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা এলাকায় শনিবার বিএনপি-আওয়ামী লীগ সংঘর্ষে আহত যুবদল নেতা ফারুক হোসেন রোববার ভোরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। জেলার পাটগ্রাম উপজেলায় ১১টি ও লালমনিরহাট সদর উপজেলায় ১৩টি ভোটকেন্দ্রে অগ্নিসংযোগ করেন বিএনপি-জামায়াত কর্মীরা। পাটগ্রাম উপজেলায় পুলিশের অস্ত্র কেড়ে নেয় শিবির কর্মী। লালমনিরহাট সদরে পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে বিএনপি কর্মীরা।
টঙ্গীবাড়িতে ছাত্রদল নেতার মৃত্যু
লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) : মুন্সীগঞ্জে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে পুকুরে পড়ে ছাত্রদল নেতার মৃত্যু হয়েছে। নিহত কংকন (২৫) কাঠাদিয়া শিমুলিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম-সম্পাদক কংকন। একই ইউনিয়নের আলদী গ্রামের মরহুম আবদুল হক মাস্টারের ছেলে। থানা পুলিশ রোববার সকাল ৮টার দিকে তার লাশ উদ্ধার করে।
টঙ্গীবাড়ি উপজেলা যুবদলের সভাপতি শামীম মোল্লা জানান, শনিবার রাত ১১টার দিকে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর পুলিশ কংকনকে ধাওয়া করে। এ সময় কংকন দক্ষিণ শিমুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের কাছে পুকুরে পড়ে যায়। পরে রাত সাড়ে ১২ টার দিকে কংকন মারা যায়।
ফরিদগঞ্জে নিহত ১
ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) : গতকাল রোববার পুলিশের গুলিতে ফরিদগঞ্জের চরমান্দারী গ্রামে রুবেল নামে এক শিবিরকর্মী নিহত হয়েছে।
জানা গেছে, চরমান্দারী গ্রামের মৃত বশির উল্লাহর ছেলে শাহাদাৎ হোসেন রুবেল (২০)। সে গতকাল দুপুর ১২টায় পাশের রামগঞ্জ উপজেলার বাংলাবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে যায়। তখন সেখানে পুলিশের সাথে জনতার সংঘর্ষ চলছিল। ওই সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে রুবেল গুলিবিদ্ধ হয়। আশপাশের লোকজন তাকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে রায়পুর সরকারি হাসপাতালে ও পরে চাঁদপুর হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিলে পথেই তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে পোস্ট মর্টেমের জন্য রুবেলের মৃতদেহ চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
লক্ষ্মীপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত ১
লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের মধ্য মাছিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পুলিশের গুলিতে মো: রুবেল হোসেন (২৬) নামের এক শিবিরকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত রুবেল চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার চরমান্দারী এলাকার মৃত বসির উল্যার ছেলে। এ সময় যুবদল নেতা সাইফুল ইসলাম সুমন, যুবদল কর্মী টিপু, শিবিরকর্মী আনোয়ার হোসেন গুলিবিদ্ধ, পুলিশের এসআই ফরহাদ, কনস্টেবল ফয়েজ ও মাইক্রোবাস চালক মো: হোসেনসহ কমপে ১০ জন আহত হয়। আহতদের বিভিন্ন কিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য দিকে রামগঞ্জ ২০টি, রামগতি ও কমলনগর ১০টি ভোটকেন্দ্রের ব্যালাট পেপার, ব্যালট বাক্সসহ নির্বাচনী সামগ্রীতে অগ্নিসংযোগ করা হয়।
বীরগঞ্জে হামলায় শিবিরকর্মী নিহত
দিনাজপুরের বীরগঞ্জে আওয়ামী লীগ ও যৌথবাহিনীর প্রহারে এক মাদরাসাছাত্র মারা গেছে। তার নাম আলাউদ্দিন (১৪)। সে বীরগঞ্জ বুল্লি গ্রামের আবুল কালাম আজাদের ছেলে। সে কাঠগড় আলিম মাদরাসার দাখিল দশম শ্রেণীর ছাত্রও। তিনি শিবিরকর্মী বলে জানা গেছে।
শেরপুর : পেট্রলবোমা নিক্ষেপ, ককটেল বিস্ফোরণ, পুলিশের শর্টগানের গুলি ও সহিংস ঘটনার মধ্য দিয়ে গতকাল শেরপুরের তিনটি আসনে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। এসব ঘটনায় পুলিশের একজন কর্মকর্তাসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। নির্বাচনবিরোধী হামলার ঘটনায় দু’টি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়।
শেরপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী বদিউজ্জামান বাদশা আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী মতিয়া চৌধুরীর বিরুদ্ধে ভোট ডাকাতি, কেন্দ্র দখল, কেন্দ্র থেকে তার (বাদশার) নির্বাচনী এজেন্ট বের করে দেয়াসহ নকলার ৫০টি কেন্দ্রে কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জন করেছেন।
মহেশপুর (ঝিনাইদহ) : শনিবার মধ্য রাত থেকে ভোটকেন্দ্রে বোমা হামলা, অগ্নিসংযোগ, মারধর, ব্যালট পেপার কেড়ে নেয়া, প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসারদের ঘাড়ে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়ায় সকালেই মহেশপুর উপজেলার গাড়াবাড়ীয়া, রামচন্দ্রপুর, নওদাগ্রাম, সামন্তা দাখিল মাদরাসা ও কোলা ভোটকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
পাবনা : ভোটকেন্দ্র দখল, জালভোট, এক ব্যক্তির একাধিক ভোট দেয়া ও একজন প্রতিমন্ত্রীর ছেলের নেতৃত্বে ভোট কেটে নেয়াসহ প্রিজাইডিং অফিসারকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগের মধ্য দিয়ে গতকাল সম্পন্ন হয়েছে পাবান-১ ও ৩ আসনের ভোট গ্রহণ। অন্য দিকে কোনো কেন্দ্রেই বেলা ১টা পর্যন্ত সাধারণ কোনো ভোটারকে চোখে পড়েনি। বিনা বাধায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অবাধে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে বুথে প্রবেশ করে জোরপূর্বক প্রিজাইডিং অফিসারের কাছ থেকে ব্যালট পেপার কেড়ে নিয়ে ভোট কাটতে দেখা যায়।
ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) : হরতালের সমর্থনে গত শনিবার রাতে বিােভ মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে হরতাল সমর্থনকারী। ঘাটাইল পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে শনিবার রাত ১০টায় ১০টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে বলে এলাকাবাসী জানান। এ ছাড়া তারা তিন-চারটি সিএনজি ভাঙচুর করা হয়। এ সময় যৌথবাহিনী মিঠু ও নিজাম উদ্দিন নামে দুই বিএনপি কর্মীকে আটক করে।
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) : মৌলভীবাজার-২ আসনের ভোট গ্রহণের দিন গতকাল কমলগঞ্জের এ এ টি এম উচ্চবিদ্যালয়ে সারা দিনে ভোট পড়েছে ১০১টি। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা দুই হাজার ২৫১টি। এটি কমলগঞ্জে ২৯টি কেন্দ্রের সর্ব নিম্ন ভোট।
লোহাগাড়ায় শিবিরকর্মী নিহত
লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) : লোহাগাড়ায় পুলিশের গুলিতে এনামুল হক লালু নামে এক শিবিরকর্মী নিহত হয়েছেন। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার বড়হাতিয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর এলাকায় নির্বাচনবিরোধীদের সাথে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলাকালে পুলিশ গুলি করলে ঘটনাস্থলেই তিনি প্রাণ হারান। তিনি স্থানীয় বড়হাতিয়া এশাআতুল উলুম মাদরাসার আলিমের ছাত্র। এ ঘটনায় আরো পাঁচ শিবিরকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। নিহত এনামুল স্থানীয় হাদুরপাড়ার কামাল উদ্দিনের ছেলে। অন্য গুলিবিদ্ধরা হলেনÑ ইমরান, আবু নাছের, আরিফ, গিয়াস উদ্দিন প্রমুখ।
ফেনী ও সোনাগাজী : ফেনী-৩ আসনে গতকাল রোববার ভোট গ্রহণ হলেও তাতে সাড়ে দেননি ভোটাররা। সোনাগাজী ও দাগনভূঞা দুই উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও দু’টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত আসনটির বেশির ভাগ কেন্দ্রই দুপুর পর্যন্ত ছিল ভোটারশূন্য। কয়েকটি কেন্দ্রে জোর করেও ভোটার সংগ্রহ করতে পারেনি সরকারদলীয় কর্মীরা। বিশেষ করে দুই উপজেলার ১২২টি কেন্দ্রের অন্তত ৫০টিতে ১০-২০ জনের বেশি ভোটার উপস্থিত হননি।
ভোলাহাট (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) : ভোলাহাটে তিনটি ভোটকেন্দ্রে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটলেও বাকি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ২৭টি ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
বাগেরহাট : বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) আসনের বিভিন্ন কেন্দ্রে পর্যবেক্ষক ও আওয়ামী লীগের দুই বিদ্রোহী প্রার্থীর এজেন্টদের ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে গণহারে ব্যালটে সিল, ব্যাপক জালভোট ও ভোটারহীন অবস্থায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলার ১৩৭টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬০টি কেন্দ্রে ভোটারবিহীন এই ভোটের চিত্র এমনটি হলেও ভোট শেষে সরকারিভাবে দাবি করা হয়েছে এই আসনে ভোট পড়েছে শতকরা ৩২ ভাগ।
মোরেলগঞ্জের হোগলাপাশা ইউনিয়নের একটি ভোটকেন্দ্র হোগলাপাশা সম্মিলনী শিক্ষা নিকেতন। এই কেন্দ্রে মোট ভোটারের সংখ্যা দুই হাজার ৬২২। বেলা ৩টায় ওই কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, ৩ নম্বর বুথে ১২১টি মহিলা ভোটের মধ্যে ৭ ঘণ্টায় ভোট দিয়েছেন মাত্র তিনজন। ১ নম্বর বুথে ৪৩৭ ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৩৭ জন। এই ৭ ঘণ্টার মধ্যে ওই কেন্দ্রের ৭টি বুথে ভোট পড়েছে মাত্র ২৮১টি। ওই কেন্দ্রের সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার জাহাঙ্গীর আলম ও প্রিজাইডিং অফিসার শুভাঙ্কর শেখর অধিকারী জানান, তারা ভোটারের জন্য অপেক্ষায় থাকলেও ভোটাররা ভোট দিতে আসছেন না। তাই তারা ভোটার না থাকায় ভোটকেন্দ্রের সামনে চেয়ার পেতে রোদ পোহাচ্ছেন।
ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনের ডৌহাখলা ইউনিয়নের সিংহজানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জালভোট দেয়ার সময় আবু সাঈদ (৫০) নামে আওয়ামী লীগের এক নেতাকে আটক করে পুলিশ। পরে দলীয় নেতাকর্মীদের হস্তেেপ পুলিশ ওই নেতাকে ছেড়ে দেয়। এ ব্যাপারে প্রিজাইডিং অফিসার আফতাব উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, জালভোট দেয়ার চেষ্টা করলে তাকে আটক করা হয়েছিল। পরে স্থানীয় লোকজনের অনুরোধে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।
বগুড়া অফিস : ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের সাথে বগুড়ার ধুনট উপজেলায় আওয়ামী লীগের সাথে সংঘর্ষে ১৫ জন আহত হয়েছে। গতকাল সকাল ১০টায় সংঘর্ষকালে পুলিশ ২৩ রাউন্ড ফাঁকা রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষ চলাকালে ৪-৫টি ককটেল বিস্ফোরণ হয়।
জানা যায়, অবরোধ ও হরতালের সমর্থনে ধুনটে ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা শহরে লাঠি মিছিল নিয়ে উপজেলার চারমাথা মোড় এলাকায় পৌঁছলে উপজেলা আওয়ামী লীগের হরতালবিরোধী মিছিলের মুখোমুখি হয়। এ সময় ১৮ দলের ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। থেমে থেমে সংঘর্ষ হয়।
নরসিংদী : নরসিংদীর তিনটি আসনে স্বল্পসংখ্যক ভোটারের উপস্থিতি ও ব্যাপক ককটেল বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হলেও সাড়ে ৯টা পর্যন্ত তিনটি আসনের অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে আসতে দেখা যায়নি কাউকে। সকাল ৯টায় নরসিংদী শহরের ব্রাহ্মন্দী সরকারি উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে মাত্র পাঁচজন পুরুষ ভোটারকে ভোট দিতে দেখা গেছে। শহরের চিনিশপুর ভোটকেন্দ্রে মাত্র ১৭২ জন ভোটার ভোট প্রদান করেন। এমনি অবস্থা অনেক ভোটকেন্দ্রে। নরসিংদী সদর-১, নরসিংদী-২ পলাশ ও নরসিংদী-৩ শিবপুরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে কেন্দ্রগুলো প্রায় ভোটারশূন্য। কোনো কোনো কেন্দ্রে ১৫-২০ ভাগ ভোট কাস্ট হয়েছে। তবে সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা বিভিন্ন কেন্দ্রে ব্যালটে সিল মেরে বাক্স ভরতে দেখা গেছে। এ দিকে গত শনিবার রাত থেকে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ব্যাপক ককটেল বিস্ফোরণ এবং নুরালাপুর ও কাঁঠালিয়া ভোটকেন্দ্রে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
গাজীপুর : গাজীপুর-৪ কাপাসিয়া আসনের একটি কেন্দ্র ছাড়া ১১৬টি কেন্দ্রে কম ভোটার উপস্থিতির মধ্য দিয়ে নিরুত্তাপ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ হয়েছে। নির্বাচনে ভোট কারচুপি, কর্মী ও এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া, জাল ভোট প্রদানসহ নির্বাচন সুষ্ঠু না হওয়ার অভিযোগ এনে এক প্রার্থী নির্বাচন বয়কট করেছেন। কোনো কেন্দ্রে ভোটারদের লাইন বা অপেক্ষমাণ ভোটার দেখা যায়নি। দুপুর পর্যন্ত অধিকাংশ কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কম থাকলেও বিকেলে উপস্থিতি না বাড়লেও বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোট কাস্টিং বেড়েছে। ভোটগ্রহণের শেষপর্যায়ে বিকেল সাড়ে ৩টায় উত্তর খামের দাখিল মাদরাসা কেন্দ্রের বাইরে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে।
জাপা প্রার্থীর নির্বাচন বর্জন
অন্য দিকে নির্বাচনে ভোট কারচুপি, কর্মী ও এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া, জাল ভোট প্রদানসহ নির্বাচন সুষ্ঠু না হওয়ার অভিযোগ এনে নির্বাচন বয়কট করেছেন এ আসনের জাতীয় পার্টি সমর্থিত লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী এম এম আনোয়ার হোসেন। তিনি বিকেল ৩টার দিকে সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দেন। একই সাথে নির্বাচন বাতিলের আহ্বান জানান তিনি।
গলাচিপা (পটুয়াখালী) : গলাচিপা উপজেলায় অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রে ভোটারবিহীন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোটকেন্দ্রগুলো আওয়ামী লীগ সমর্থকদের দখলে ছিল। কেন্দ্রগুলোতে ছিল না সাধারণ ভোটার। দু-একজন ভোটার ভোট দিতে গেলেও গিয়ে দেখেন তাদের ভোট আগেই দেয়া হয়ে গেছে। এ রকম এমন একটা ভোটকেন্দ্র হলো গলাচিপা সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ কালিকাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়। সরেজমিনে গেলে আওয়ামী লীগের কর্মীরা এক-একজনে ২০-৩০টা করে ভোট দিয়েছে। স্কুলপড়–য়া ছাত্ররাও ভোট দেয় এখানে।
ঝালকাঠি : ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনের ৮৮টি কেন্দ্রে গতকাল ভোটারদের উপস্থিতি ছিল একেবারেই কম। তা ছাড়া এ আসনের ভোটারদের মধ্যে বেশির ভাগই ডামি ভোটার ভোট দেন। সরেজমিন রোববার সকাল ৮ থেকে ৪টা পর্যন্ত এ আসনের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে এ চিত্র। এ আসনে মোট ভোটার এক লাখ ৫৪ হাজার ৫৭৪ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৭৫ হাজার ৪৫১ জন ও মহিলা ভোটার ৭৯ হাজার ১২৩ জন।
কলারোয়া (সাতক্ষীরা) : কলারোয়ায় ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারের উপস্থিতির চেয়ে চা দোকানে টিভির সামনে খবর দেখতে ভিড় ছিল বেশি। বেশ কিছু ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, মাঝে মাঝে ১-২ জন করে ভোটার এসে ভোট দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে। কোনো কেন্দ্রে ভোটারদের লাইন দেয়ার দৃশ্য চোখে পড়েনি। বেলা ২টা পর্যন্ত কোনো কোনো ভোটকেন্দ্রে ভোটার হাজিরা এত কম ছিল যে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বাইরে এসে অলসভাবে ঘোরাফেরা করতে থাকেন। বেলা ২টা ৩০ মিনিটে উত্তর সোনাবাড়িয়া কেন্দ্রে ২৩৬০ ভোটের মধ্যে ২৫৩ জন এবং দক্ষিণ সোনাবাড়িয়া কেন্দ্রে ৩২১৫ ভোটারের মধ্যে ৩০৭ জন ভোট প্রদান করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
কুমিল্লা : দাউদকান্দি ও মেঘনা উপজেলায় ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে। দাউদকান্দি উপজেলার গয়েশপুর ভোটকেন্দ্রে ভোটারসংখ্যা প্রায় ১৮০০। ভোট পড়েছে ১৩টি। শতকরা .০৬ (দশমিক শূন্য ছয়) ভাগ। কুমিল্লা-১ আসনে গতকালের সংসদ নির্বাচনে কোথাও শতকরা ১০ থেকে ১৫ ভাগের বেশি ভোট পড়েনি। নির্বাচনে জেতা এবং ভোটার উপস্থিতি বেশি দেখাতে এই আসনে নৌকা ও কলসি প্রতীকের কর্মী-সমর্থকরা ব্যাপক জালভোট এবং ভোটকেন্দ্র দখলের প্রতিযোগিতায় নামে।
নড়াইল ও লোহাগড়া : নড়াইল সদর উপজেলার বোড়ামারা হাইস্কুল ভোটকেন্দ্রে ২ হাজার ৮১৭ ভোটারের মধ্যে ভোট পড়েছে মাত্র ৬৯টি। এ ছাড়া লোহাগড়া উপজেলার মঙ্গলহাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ভোটারদের লাইনে শিশুদেরও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
এ দিকে এ আসনের (নড়াইল-২) বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে প্রায় ৫০টি ককটেল বিস্ফোরণ ও একটি কেন্দ্রে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবার রাত ১টায় নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার দিঘলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসারের কক্ষে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। এ সময় ইমদাদ নামে একজনকে আটক করা হয়।
বগুড়া অফিস : বগুড়ার গাবতলী মডেল থানায় হামলা চালিয়েছে ১৮ দলের বিুব্ধ হাজার হাজার নেতাকর্মী। ১৮ দলের নেতাকর্মীদের আক্রমণের মুখে টিকতে না পেরে পুলিশ থানা থেকে উপজেলা পরিষদে গিয়ে আশ্রয় নেয়। পরে র্যাব ও বিজিবির সহায়তায় পুলিশ টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ছাড়া বহু কেন্দ্রে হামলা, ব্যালট পেপার ছিনতাই ও কর্মকর্তাদের মারধর করা হয়েছে। প্রতিরোধের মুখে অর্ধশতাধিক কেন্দ্রে ভোট স্থগিত হয়ে গেছে। তবে সরকারিভাবে ৮টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ৯টার দিকে গাবতলী পাইলট উচ্চবিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে অগ্নিসংযোগের পর পুলিশ ব্যালট পেপার ও বাক্স গাবতলী মডেল থানায় নিয়ে আসে। এর পরপরই ১৮ দলের কয়েক হাজার নেতাকর্মী থানা লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ও ককটেল নিক্ষেপ শুরু করে। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে থানায় অবস্থানরত কিছু পুলিশ থানার পেছন দিয়ে উপজেলা পরিষদে গিয়ে আশ্রয় নেয়। পরে র্যাব ও বিজিবির সহায়তায় পুলিশ থানার তিনমাথা মোড়ে অবস্থান নিয়ে ব্যাপক টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ শুরু করে। আধা ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ চলার পর ১৮ দলের নেতাকর্মীরা পিছু হটে। এ সময় পুলিশ দুইজনকে আটক করে। পুলিশের গুলিতে ১৮ দলের বেশ কয়েক জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বেলা ১১টা পর্যন্ত ওসি থানা ভবনে অবরুদ্ধ বলে জানা গেছে।
ময়মনসিংহ অফিস : নগণ্য সংখ্যক ভোটারের উপস্থিতিতে ময়মনসিংহের পাঁচটি আসনে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। সকাল থেকেই দুপুর পর্যন্ত বেশির ভাগ ভোটকেন্দ্র ছিল ফাঁকা। প্রায় সব ক’টি কেন্দ্রেই ভোটারের উপস্থিতি ছিল হাতেগোনা। বেশির ভাগ কেন্দ্রে বেলা ২টা পর্যন্ত শতকরা ১৫ থেকে ২০ ভাগ ভোটার ভোট দেন। এ দিকে নৌকার সমর্থকরা গ্র“প করে লাইনে দাঁড়িয়ে একেকজন ২০-২৫টি করে ভোট দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বেলা ১১টার দিকে ফুলবাড়িয়া উপজেলার গড়কালিবাজাইল কেন্দ্রে নৌকার সমর্থকরা কেন্দ্র দখল করে সিল মারে।
ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী নাজনীন আলম বিকেলে ময়মনসিংহ প্রেস কাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ৩৫টি কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচন দাবি করেন।
ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহাদাত ইসলাম চৌধুরী জানান, বেলা ২টার পর নৌকার সমর্থকরা প্রায় সব ক’টি কেন্দ্র দখল করে একচেটিয়া নৌকায় সিল মারে।
সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি ছিল খুব কম। স্থানীয় সাধারণ জনগণের মধ্যে ভোটদানে তেমন কোনো আগ্রহ দেখা যায়নি। সকাল ১০টায় উপজেলার কুট্টাপাড়া পূর্ব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩টি ককটেল বিস্ফোরিত হয় এবং ২টি ককটেল অবিস্ফোরিত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।
ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহের মহেশপুর ও কোটচাঁদপুর উপজেলার অন্তত ১৫টি ভোটকেন্দ্রে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসব ভোটকেন্দ্রে দলবদ্ধ জনতা হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে ব্যালট পেপার পুড়িয়ে দেয়। ফলে দুই উপজেলার ১৫টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করেছে প্রশাসন। মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার নাসিমা বেগম ও কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসার দেব প্রসাদ ভোটগ্রহণ স্থগিতের তথ্য নিশ্চিত করেন।
সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালী) আসনের ১২১টি ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ শেষ হয়। সকাল ৮টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু করা হলেও অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল খুবই নগণ্য। এ দিকে এ আসনের ৫টি ভোটকেন্দ্রে কোনো ভোট পড়েনি। এই আসনের একটি ভোটকেন্দ্রে আগুন ও ব্যালট বাক্স ছিনতাই হওয়ায় ভোট গ্রহণ বন্ধ রাখা হয়েছে। ভোট গ্রহণ চলাকালে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায় নির্বাচনবিরোধীরা।
কুমিল্লা : কুমিল্লার ১১টি আসনের মধ্যে সাতটি আসনে ভোট গ্রহণ হয়েছে। ভোটারের উপস্থিতি ছিল হতাশাজনক। সহিংসতায় কুমিল্লা-৯ লাকসাম-মনোহরগঞ্জ আসনের মনোহরগঞ্জ উপজেলায় ১৪টি ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হয়নি। এ আসনের নির্বাচনী সহিংসতা ভোট গ্রহণে অনিয়ম ও প্রার্থীর এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগে জাতীয় পার্টির প্রার্থী প্রফেসর ড. গোলাম মোস্তফা নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত করে আবার নির্বাচন দাবি করেন। কুমিল্লা-৩ মুরাদনগর আসনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকারকে নিরাপত্তা হেফাজতে নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে তাকে নিজবাড়ির বাইরে যাবে না এই শর্তে বাড়ি যেতে দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। মুরাদনগর আসনে একটি ভোটকেন্দ্রে ব্যালট ছিনতাইয়ের কারণে একটি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়। বরুরা আসনে জাল ভোট দেয়ার অভিযোগ এনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এ এস এম কামরুল ইসলাম ভোট বর্জন করেছেন। কুমিল্লা-১ দাউদকান্দি-মেঘনা আসনের দাউদকান্দির গোয়ালমারী হাই স্কুলের ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ চলাকালে দু’টি ব্যালট পেপার ছিনতাই করা হয়। কুমিল্লা-৩ মুরাদনগর আসনে ভোট গ্রহণকালে মটকিরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ব্যালট পেপার ছিনতাই করা হয়। ফলে এ কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়। কুমিল্লার দেবিদ্বারের রাজামেহার স্কুল কেন্দ্রে ব্যালেট বাক্স ভাঙচুর করা হয়।
পঞ্চগড় : পঞ্চগড়ে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র্রে সকাল ৮টায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়। সকাল ৯টা পর্যন্ত এসব ভোটকেন্দ্র্রে ভোটারদের উপস্থিতি তেমন দেখা যায়নি।
পঞ্চগড়-১ আসনে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত প্রায় ১০ শতাংশ ভোট গ্রহণের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র্রে তিন হাজার ৬৪৮ ভোটারের মধ্যে ৩৬৮, করতোয়া কালেক্টরেট আদর্শ শিক্ষা নিকেতনে তিন হাজার ২৬ ভোটারের মধ্যে ৪০৬, পঞ্চগড় নুর আলা নুর কামিল মাদরাসা কেন্দ্রে তিন হাজার ৬৮২ ভোটারের মধ্যে ৬০০, নতুনবস্তি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই হাজার ৭৭৫ ভোটারের মধ্যে ৭১২ এবং দারুল উলুম মদিনাতুল মাদরাসা কেন্দ্রে দুই হাজার ৫২৩ ভোটারের মধ্যে ৩৯৭টি ভোট পড়ে বলে দাবি করা হয়েছে।
কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়ায় বেশির ভাগ ভোটকেন্দ্র্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল না; কিন্তু জেলার বেশির ভাগ ভোটকেন্দ্রেগুলো পূর্ণ দখলে নিয়ে ভোট কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। জেলার চারটি আসনের মধ্যে ভোট গ্রহণ হয় তিনটি আসনের। গতকাল দুপুর পর্যন্ত কেন্দ্রগুলোতে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ ভোট পড়লেও দুপুরের পর থেকেই সব কেন্দ্রে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী কারচুপির মাধ্যমে ভোট দেয়ার হার বৃদ্ধি করে।
অনেক কেন্দ্রে ভোট দিতে এসে অনেককে ফিরে যেতে দেখা গেছে। কেন্দ্রে এসে দেখে ভোট দেয়া হয়ে গেছে। এর সঠিক উত্তর প্রিজাইডিং অফিসার দিতে পারেননি। শহর ও গ্রামাঞ্চলের ভোট কারচুপি হয় একই কায়দায়। কেন্দ্রে থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিরাপত্তা কর্মীদের কোনো রকমের তৎপরতা ছিল না।
নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) : নবাবগঞ্জে টান টান উত্তেজনা, ভোটকেন্দ্রে অগ্নিসংযোগ ও ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের মধ্যে দিয়ে ভোট গ্রহণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
গতকাল বেলা ৩টার দিকে উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের আজমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৬০০-৭০০ জনের একটি দল আক্রমণ চালিয়ে নির্বাচনী সরঞ্জামে অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় ভোট গ্রহণে দায়িত্বরতরা পালিয়ে যান। এর পরপরই উপজেলার ভাদুরিয়া ইউনিয়নের শাল্টি মুরাদপুর মাদরাসাকেন্দ্রে ককটেল ফাটিয়ে পাঁচটি ব্যালট বাক্স ছিনতাই করায় দু’টি কেন্দ্রেই ভোট গ্রহণের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। কয়েকটি ভোটকেন্দ্র ঘুরে ভোটারদের তেমন উপস্থিতি ল করা যায়নি। উপজেলার ভাদুরিয়া ইউনিয়নের হেলেঞ্চা মাদরাসাকেন্দ্রে দুই হাজার ২৭২ জন ভোটারের মধ্যে একজন ভোটারও ভোট দিতে আসেননি বলে ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার প্রভাষক সাইদুল ইসলাম জানান। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (বিকেল ৫টা) উপজেলা এলাকায় শতকরা কত ভাগ ভোট গ্রহণ হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জামালপুর : জেলার ইসলামপুর উপজেলার সাপধরী ইউনিয়নের উত্তর জোরডোবা রেজি: প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরিষাবাড়ী উপজেলার ভাবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গারাডোবা সিরাতুন্নবী আলিম মাদরাসা ভোটকেন্দ্র্রে রোববার রাতে অগ্নিসংযোগ ও ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সরিষাবাড়ী উপজেলার ভাবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গারাডোবা সিরাতুন্নবী আলিম মাদরাসা ভোটকেন্দ্র্রে স্থগিত ঘোষণা করেছে সরিষাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহকারী রিটার্নিং অফিসার আবেদা গুলসান। এ ছাড়াও সরিষাবাড়ী আলিয়া মাদরাসা ভোটকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় দুই রাউন্ড গুলিবর্ষণ করেছে পুলিশ। এ দিকে সাপধরী ইউনিয়নের উত্তর জোরডোবা রেজি: প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রটি উলিয়া উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্র স্থানান্তর করে ভোট নেয়া হচ্ছে বলে জানান ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহকারী রিটার্নিং অফিসার নজরুল ইসলাম। অন্য দিকে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র্র থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়া ও প্রহসনের নির্বাচন অভিযোগ তুলে জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিকুর রহমান লুইস নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন।
পলাশবাড়ীতে শ্রমিক দলের সভাপতি নিহত
গাইবান্ধা : গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ীতে বেলা ১১টায় উপজেলার হরিনাথপুর ইউনিয়নের কদমতলী এলাকায় আওয়ামী লীগের সাথে বিএনপির সংঘর্ষে ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে তার মৃত্যু হয়। নিহত সাইফুল ইসলাম কদমতলী গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে। এ ছাড়া সকাল ১০টার দিকে পলাশবাড়ী উপজেলার তিনমাথা এলাকায় পুলিশের সাথে নির্বাচন বিরোধীদের সংঘর্ষকালে ২৫ জন আহত হন। এর মধ্যে গুলিবিদ্ধ রাজিব হোসেন (২২), ইসমাইল হোসেন (২০) ও মশিউর মিয়া (১৪) গুরুতর আহত হন। তারা গ্রেফতার এড়াতে নিজ দায়িত্বে বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এ দিকে গাইবান্ধায় ৪টি আসনে ৪৬৫ কেন্দ্রের মধ্যে ১২৮টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত হয়েছে। এ দিকে পলাশবাড়ীতে গতকাল দুপুরের পুলিশের সাথে ১৮ দল কর্মীদের সংঘর্ষে তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়। ১৮ দলের নেতাকর্মীরা গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী সড়কের মাটেরহাট এলাকায় বিােভ মিছিল করে নির্বাচন বিরোধী স্লোগান দেয়। তারা ঢোলভাঙ্গা এলাকায় একাধিক স্থানে বড় বড় গাছ কেটে সড়কে অবরোধ সৃষ্টি করে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ব্যাপক বোমাবাজি, ভোটকেন্দ্র দখল, জাল ভোট ও প্রতিবাদ বিােভের মুখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৪টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোটগ্রহণে ব্যাপক অনিয়ম কারচুপির অভিযোগ এনে ও এ নির্বাচন প্রহসনের উল্লেখ করে জাতীয় পার্টি ও জেপির দুই প্রার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে এ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে জেপি প্রার্থী ফরিদ আহমেদ তার নিজের ভোট দিতে না পারায় নির্বাচন বর্জন করেন। জাল ভোট দেয়ার সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে ৩ সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারকে গ্রেফতার করেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।
গতকাল ভোটগ্রহণ শুরুর সময় থেকে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র্রে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ছাড়া অন্য কেউ তেমন ছিল না। বেলা বাড়ার সাথে সাথে বিভিন্ন কেন্দ্রে জাল ভোট দেয়ার ঘটনা শুরু হয়। জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে ককটেল বিস্ফোরণসহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রিজাইডিং অফিসারকে মারধর ও ব্যালট বাক্স ভাঙচুর ও ব্যালট পেপার ছিনতাই হয়েছে।
গতকাল সকালে অর্ধশতাধিক ভোটকেন্দ্রের ভেতর ও বাইরে শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। বেলা ১১টার দিকে আশুগঞ্জের ৭টি ভোটকেন্দ্রেও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত শহরের বেশ কয়েকটি ভোটকেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, হাতেগোনা কয়েকটি মাত্র ভোট কাস্ট হয়েছে। ভোটারদের কোনো সারি নেই। তবে পুরুষ ও মহিলা ভোটকেন্দ্রে সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা জাল ভোট দিতে তৎপর ছিল। বেলা প্রায় ২টার দিকে ওই সব কেন্দ্রের ৬০-৭০ ভাগ ভোট কাস্ট হয়ে গেছে বলে প্রিজাইডিং অফিসাররা জানান। বিজয়নগরের ফতেহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রিজাইডিং অফিসার মো: সেলিমকে মারধর করে সরকারদলীয় লোকজন। নাসিরনগর-১ উপজেলার চাতলপার ফুলকান্দি ভোটকেন্দ্রে ১৮ দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ার শেল ও গুলি বর্ষণ করে। দুপুরে পীরবাড়ি এলাকায় ১টি পিকআপ ভ্যান আগুনে পুড়িয়ে দেয়। নবীনগর-৫-উপজেলার বড় আউলিয়া সিনিয়র মাদরাসা কেন্দ্র ও নোয়াগাঁ পূর্ব রেজিস্টারড প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নির্বাচন স্থগিত করেন রিটানিং অফিসার।
চুয়াডাঙ্গা : চুয়াডাঙ্গার ২টি আসনে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। সকাল থেকে বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায় ভোটারদের উপস্থিতি হাতেগোনা। বেলা ২টায় হিজলগাড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় ২ হাজার ৪১৯ ভোটারের মধ্যে ৬০০ জন ভোট দিয়েছেন। এর মধ্যে নলবিলার মহিলা বুথে কেউ ভোট দিতে আসেননি। বিকেল সাড়ে ৩টায় চুয়াডাঙ্গা টেকনিক্যাল স্কুলকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় ২ হাজার ৯৬১ ভোটারের মধ্যে ৫৮০ জন ভোট দিয়েছেন। চুয়াডাঙ্গার পৌর এলাকার এম এ বারী কেন্দ্রের ঝিনাইদহ বাসস্ট্যান্ড পুরুষ বুথে বেলা ৩টায় ৬০২ ভোটের বিপরীতে ১০৫ জন ভোট দিয়েছেন। দুপুরের পর চুয়াডাঙ্গা শহরসহ বিভিন্ন কেন্দ্রে জাল দেয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। এ দিকে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে জাসদ ইনু প্রাথী এম সবেদ আলির নির্বাচনী এজেন্ট অ্যাডভোকেট আকসিজুল ইসলাম রতন ব্যাপক ভোট কারচুপির অভিযোগ করেছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ : বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে চাঁপাইনববগঞ্জ-২ (নাচোল, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট) আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। তবে ভোটকেন্দ্রগুলোয় সারা দিনে ভোটারদের উপস্থিতি তেমন ল করা যায়নি।
এ আসনে ১৪৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৩০টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল জেলা প্রশাসন। সারা দিন এসব এলাকার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র ঘুরে ভোটারদের তেমন উপস্থিতি ল করা যায়নি। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে একদল লোক লাঠিসোটা নিয়ে ভোলাহাট উপজেলার আদাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করে। তারা কেন্দ্রের বাইরে ৮-১০টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়।
টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইলে আটটি আসনের মধ্যে তিনটিতে ভোটগ্রহণ হয়েছে। এগুলো হলোÑ টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর), টাঙ্গাইল-৫ (সদর) ও টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার)। বাকি পাঁচটি আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। অনেক কেন্দ্রে জাল ভোট দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভোটের শুরু থেকে শেষ অবধি প্রায় সব ভোটকেন্দ্রই ছিল ফাঁকা। কিছুণ পরপর একজন, দুইজন করে ভোটার এসে ভোট দেন। অন্তত ১০টি কেন্দ্রে গিয়ে ভোটারদের কোনো লাইন দেখা যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অলস বসে থাকতে দেখা গেছে।
কিশোরগঞ্জ : কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল কম। ভোট প্রদানের হার বেশি দেখাতে এ আসনে ১২০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে অর্ধশতাধিক কেন্দ্রে জাতীয় পার্টির প্রার্থী বর্তমান সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নুর লোকেরা ব্যাপক হারে জালভোট প্রদান করেছে বলে জানা গেছে। বেশ কিছু কেন্দ্র থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ড. মিজানুল হকের অ্যাজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভোট গ্রহণ চলাকালে রোববার বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায় ভোটার উপস্থিতি ছিল খুবই কম। করিমগঞ্জ উপজেলার জয়কা ইউনিয়নের উত্তর কান্দাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বেলা আড়াইটায় মোট ২৪৫২ ভোটের মধ্যে ২৫৪ ভোট পড়ে। জয়কা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বেলা ৩টায় ৩৯৭৫টি ভোটের বিপরীতে ভোট পড়ে ১২৫টি।
এ দিকে গুণধর উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ২৬৯৩টি ভোটের বিপরীতে সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ভোট পড়েছিল মাত্র ৬৫টি। এর এক ঘণ্টা পর সাত শতাধিক ভোট কাস্ট হয়েছে বলে প্রিজাইডিং অফিসার আবুল বাশার মোহাম্মদ এমদাদুল হক জানান। এ ব্যাপারে ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বরত এক পোলিং অফিসার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ভোট বাড়াতে এ কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা একেক জন ৫০টিরও বেশি করে জালভোট দিয়ে ভোটের হিসাব বাড়িয়েছেন।
নোয়াখালী : অ্যাজেন্ট কে বের করে দিয়ে দলীয় কর্মীরা কেন্দ্রে ঢুকে ব্যালটে সিল মারা ভোট দিতে আসতে পথে পথে বাধা ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মারধরের মধ্য দিয়ে নোয়াখালী-৬ হাতিয়া আসনে নির্বাচন সম্পন্ন হয়। আর এসব অভিযোগে নির্বাচন বর্জন করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম আমির। সকাল ৮টায় ভোট যখন শুরু হয় তখন প্রায় কেন্দ্রগুলো ভোটারশূন্য। বেলা বাড়ার পর বিভিন্ন দিক থেকে কিছু কিছু ভোটার আসতে শুরু করেন; কিন্তু নৌকা সমর্থিত কর্মীরা হরিণ সমর্থিত ভোটারদের পথে পথে বাধা দেয়ার গুরুতর অভিযোগ ওঠে। নৌকা সমর্থিত কর্মীরা স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভাই জহিরুল ইসলামসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে কমপক্ষে ৩০ জনকে আহত করে। বেলা ১১টায় সোনাদিয়া চরচেংগা বিদ্যালয় কেন্দ্রে হরিণ সমর্থিত কয়েকজন কর্মীকে জামায়াত-শিবির আখ্যায়িত করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে নৌকা সমর্থিত কর্মীরা। এ সময় উত্তেজনা দেখা দেয়। এলাকাবাসী পুলিশ থেকে তাদেরকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ গুলি চালায়। এতে ছয়জন গুলিবিদ্ধসহ ১০ জন আহত হয়।
খাগড়াছড়ি : খাগড়াছড়ির পাহাড়ি অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে ভোর থেকে নারী-পুরুষকে ভোট দিতে দেখা গেছে। তবে বাঙালি অধ্যুষিত এলাকার ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল কম।
খাগড়াছড়ির ১৮১টি কেন্দ্রের ১৫৯টি কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও বিকেল সাড়ে ৩টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
শনিবার রাতে জেলার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রের আশপাশ এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নাশকতা ও আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করে বিরোধীদল।
ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহ শহরের ৩০টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ চলছে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে। তবে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতির হার একেবারেই কম। সকাল ৯টা পর্যন্ত শহরের ওয়াজির আলী হাইস্কুল কেন্দ্রে ভোট পড়ে মাত্র একটি। রোববার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ঝিনাইদহ শহরের সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের একটি কে দুইটি ভোট পড়ে। বাকি ৪টি কে কোনো ভোট পড়েনি। শহরের সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয়, ওয়াজির আলী, আরাপপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আরাপপুর নিউ অ্যাকাডেমি কেন্দ্র ঘুরে দু-একজন ভোটারের উপস্থিতি পাওয়া যায়।
জেলার মহেশপুর ও কোটচাঁদপুর উপজেলার অন্তত ১০টি ভোটকেন্দ্রে ব্যাপক সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। এসব ভোটকেন্দ্রে বিএনপি-জামায়াতের কর্মীরা হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে ব্যালট পেপার পুড়িয়ে দেয়। ফলে দুই উপজেলার সাতটি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করেছে প্রশাসন। মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার নাসিমা বেগম ও কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার দেব প্রসাদ ভোট গ্রহণ স্থগিতের তথ্য নিশ্চিত করেন।
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) : রূপগঞ্জ উপজেলার চরপাড়া, কালাদী, নগরপাড়া কেন্দ্রে ভোট চলাকালীন গতকাল রোববার কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় ছাত্রদল নেতা আমজাদ হোসেন, রউফ মিয়া, আজিজুর রহমান, যুবদল নেতা অলিউল্লাহ, কামালকে আটক করে পুলিশ। ককটেলের আঘাতে গুরুতর আহত আলী মোহাম্মদ, মিলন মিয়া ও আবুল বাশারকে কাঞ্চনের দায়েমউদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ দিকে উপজেলার গোলাকান্দাইল উত্তরপাড়া এলাকার ঘোষপাড়া পূজামণ্ডপে ও টাওড়া, পিতলগঞ্জ, নোয়াপাড়া, তারাব পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট, গোলাকান্দাইল দণিপাড়া কেন্দ্র, আড়িয়াব এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
বড়লেখা (মৌলভীবাজার) : মৌলভীবাজারের বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলা নিয়ে মৌলভীবাজার-১ আসনে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে ব্যাপক সহিংসতার মধ্য দিয়ে। বড়লেখার কাঁঠালতলীতে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে অস্ত্র ছিনিয়ে নেয় নির্বাচন প্রতিরোধকারীরা। পরে আবার ফেরত দেয়। আহত হন চারজন। আটক হয়েছে দুইজন। দণিভাগের দোহালিয়া কেন্দ্রে ২টি ব্যালট বাক্স ছিনতাই ও অগ্নিসংযোগ এবং আরো একটি ব্যালট বাক্সের অর্ধেক পুড়িয়ে ফেলা হয়। কাঁঠালতলীতে ২ রাউন্ড ও শাহবাজপুরের নান্দুয়ায় ১৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে পুলিশ। সব ক’টি ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল কম। বড়লেখার বড়লেখা সপ্রাবি কেন্দ্র, বিছরাবাজারসহ অন্তত ১৫টি কেন্দ্র ফাঁকা দেখা গেছে।
এ দিকে বড়লেখার কাঁঠালতলী উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে বেলা সাড়ে ১১টায় আনসার সদস্যদের পোশাক পরে নির্বাচন প্রতিরোধকারীরা হামলা চালিয়ে ব্যালট বাক্স ছিনতাই করার সময় পুলিশের সাথে সংঘর্ষ ঘটে। ইটপাটকেল নিপে ও হামলায় আহত হন পুলিশ কনস্টেবল আনোয়ার হোসেন (৩০), আনসার সদস্য মনসুর আলী (৩২) ও ২ ভোটার। পুলিশ ২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করলে হামলাকারীরা তার রাইফেল ছিনিয়ে নেয়। খবর পেয়ে যৌথবাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে রাইফেল উদ্ধার করে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে আসুক উদ্দিন (২৮) ও সিপার আহমদ (২৫) নামের ২ যুবককে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনার পর থেকে আতঙ্কে এই কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি কমে যায়।
এ ছাড়া বেলা ৩টা ৪০ মিনিটে দণিভাগের দোহালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নির্বাচন প্রতিরোধকারীরা হামলা চালিয়ে ২টি ব্যালট বাক্স ছিনতাই করে নিয়ে গিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ছাড়া আরো একটি ব্যালট বাক্সের অর্ধাংশ পুড়িয়ে ফেলে। এ সময় পোলিং অফিসারের একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়। এ কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করা হয়েছে।
বান্দরবান : বেলা বাড়লেও ভোটারদের উপস্থিতি বাড়েনি বান্দরবানের ভোটকেন্দ্রগুলোতে। জেলা শহরের কোনো কোনো ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের চেয়ে সাংবাদিক ও নির্বাচন পর্যক্ষেকদেরই সংখ্যা বেশি দেখা গেছে। শহরের বালিকা বিদ্যালয় হাফজ ঘোনা রেইছা সুয়ালক কেন্দ্র ঘুরে এ অবস্থা দেখা গেছে। সুয়ালক কেন্দ্রে একটি বুথে ৫ ঘণ্টায় ভোট পড়েছে মাত্র ৩০টি। এ কেন্দ্রে ভোটারের সংখ্যা ছিল কম। তবে নির্বাচনী কর্মকর্তারা বলছেন শেষ পর্যন্ত ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ভোট গ্রহণ হবে।
চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) : চিরিরবন্দরে ৬৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪৯টি কেন্দ্রে ১৮ দলীয় জোট নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ ভোটাররা ভোট বন্ধ করে দিয়েছে।
জানা গেছে, ভোট গ্রহণ উপলে প্রিজাইডিং কর্মকর্তাসহ নির্বাচনী কর্মকর্তা ও নিরাপত্তারীরা ভোটকেন্দ্রে পৌঁছলে ভোটবিরোধীরা রাতেই বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও কর্মকর্তাদের মারধর করে ৩০টি কেন্দ্রের নির্বাচনী মালপত্র এবং আসবাবপত্র পুড়িয়ে দেয়। দুপুর ১২টার মধ্যে ৪৯টি কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যায়। বিন্যাকুড়ি উচ্চবিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রে ভোটবিরোধীদের সাথে সংঘর্ষের সময় পুলিশ ৭ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। এ সময় পুলিশের গুলিতে রিপনসহ দু’জন গুলিবিদ্ধ হয়। আন্ধারমুহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বেলা ১টা পর্যন্ত মাত্র ১০টি ভোট পড়ে। ওই কেন্দ্রে মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যে নৌকা প্রতীকে এক হাজার ৮২০ ভোট এবং হাতুড়ি প্রতীকে ৫১টি ভোট দেখিয়ে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা রানীরবন্দর মহিলা কলেজের প্রভাষক মাহফুজুল হক জয় নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে জমা দেন। নবীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১১টার মধ্যে ভোট গ্রহণ স্থগিত হয়ে যায়।
খানসামা উপজেলায় ভোটবিরোধীরা শনিবার রাতে ৩৪টি কেন্দ্রে ব্যালট পেপারসহ বাক্স পুড়িয়ে দেয়। ভোট গ্রহণের সময় উপজেলার টংগুয়া হাসনাবাগ দ্বিমুখী ফাজিল মাদরাসা ভোটকেন্দ্রে ভোটবিরোধীরা দু’টি পেট্রলবোমা নিপে করে। এ সময় পুলিশ ২ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। উত্তেজিত জনতা ভোটকেন্দ্র দখল করে চম্পাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হোসেনপুর উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের মালপত্র পুড়িয়ে দেয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, সহিংসতার কারণে উপজেলার ৪৩টি ভোটকেন্দ্রের নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।
মুরাদনগর (কুমিল্লা) : কুমিল্লার-৩ (মুরাদনগর) আসনে এ পর্যন্ত ২৬টি ভোটকেন্দ্রের ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটেছে। কিছু কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ বন্ধের পর ফের শুরু হয়েছে। ২টি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত রয়েছে। তবে ভোটার উপস্থিতি একেবারেই নেই বললে চলে।
সকাল ৮টায় উপজেলার রাস্তায় রাস্তায় সেনাবাহিনী, বিজিবির স্ট্রাইকিং টিম টহলের পাশাপাশি কেন্দ্রগুলোতে পুলিশের নিয়মিত পাহারায় ভোটগ্রহণ চলেছে।
বেলা সোয়া ১২টার দিকে উপজেলা সদর ইউনিয়নের মটকিরচর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ইউছুফ আবদুল্লাহ হারুনের সমর্থক সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে আনারস মার্কায় জোর করে ব্যালট পেপারে সিল মারা শুরু করলে এলাকার লোকজন হামলা করে ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদকে মারধর করে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। পরে কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত রাখা হয়।
পিপিরাকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও এলাকার লোকজন ব্যালট পেপারে আগুন দিয়েছে। নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের রহিমপুর স্বল্পব্যয়ী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ব্যালট পেপার পানিতে ফেলে দিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে দু’জনকে আটক করেছে পুলিশ। পরে আনারস সমর্থকরা প্রশাসনের সহযোগিতায় ভোটি কেটে ফেলে। এ ছাড়া ইউছুফ আবদুল্লাহ হারুনের পে ২৬টি ভোট কেন্দ্রে আনারস মার্কায় প্রশাসনের সহযোগিতায় ব্যালট পেপারে সিল মারার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ৪টি কেন্দ্রে ফুটবল মার্কার সমর্থকরা ভোট কাটে। ১১টি ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পেপার আবার পাঠিয়ে ভোট নেয়া শুরু হয়।
ডিমলা (নীলফামারী) : নীলফামারী-১ আসনের ডিমলা উপজেলার খালিশা চাপানী বেপারী টোলা আলিম মাদরাসা (১১৯ নম্বর) কেন্দ্রে ভোট শুরুর আগের রাতে নির্বাচনী সরাঞ্জামাদিসহ কেন্দ্র জ্বালিয়ে দেয়ার আশঙ্কার ওপর ভিত্তি করে পুলিশের এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণের ঘটনায় জাহাঙ্গীর আলম (৩২) নামে এক জামায়াত কর্মী নিহত ও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন কয়েকজন। প্রশাসনের দাবি, নির্বাচনী সরাঞ্জামাদিসহ কেন্দ্রে আগুন ধরিয়ে দেয়ার চেষ্টাকালে কর্তব্যরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গুলি চালাতে বাধ্য হয়। তবে জামায়াতের পে বলা হয়েছে, কেন্দ্রের পাশের রাস্তা দিয়ে বাড়ি যাওয়ার সময় পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে তাকে হত্যা করে।
ডিমলা উপজেলার ৭৩টি কেন্দ্রের মধ্যে কমপে ২০টি কেন্দ্র ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয়া হলেও প্রশাসন বলছে গোলযোগপূর্ণ ১০টি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। এসব ঘটনায় পুলিশ, প্রিজাইডিং ও পোলিংসহ কমপে আহত হয়েছেন ২৫ জন। এ ছাড়া অনেকে কেন্দ্রের প্রিজাইডিং ও পুলিং অফিসাররা আতঙ্কের মধ্যেই ভোটকেন্দ্র ছেড়ে পালিয়ে যান। তবে কেন্দ্রগুলোতে সাধারণ ভোটারদের উপস্থিতি সন্তোষজনক ছিল না বলে অনেকেই জানিয়েছেন।
বানারীপাড়া (বরিশাল) : বানারীপাড়ায় ব্যাপক জালভোট প্রদানের মধ্য দিয়ে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি তেমন পরিলতি হয়নি। ওই সব কেন্দে বেলা ১টা পর্যন্ত ৬ থেকে ৭ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা সূত্রে জানা যায়। বানারীপাড়া ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশন ও বানারীপাড়া কলেজ কেন্দ্রে স্কুলপড়–য়া ছোট ছোট ছেলেদের দিয়ে জালভোট দেয়ার অভিযোগ রয়েছে সরকারি দল সমর্থিত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া প্রায় সব কেন্দ্রে ব্যাপক জালভোট দেয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। বেলা ২টা পর্যন্ত ভোট দেয়ার হার ৬ থেকে ৭ শতাংশ হলেও ২টার পরে তা বেড়ে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশে গিয়ে দাঁড়ায়।
কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) : লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের কমলনগর উপজেলার ১০টি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। ১৮ দলীয় জোটের সমর্থকদের হামলা-ভাঙচুর, বাক্সসহ ব্যালট পেপার লুট ও অগ্নিসংযোগের কারণে ওই সব কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়।
কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ আব্দুল আওয়াল জানান, স্থগিত ওই সব কেন্দ্রে পুনরায় ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) : চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদার লোকনাথপুর-পরানপুর সড়কে পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে বোমা হামলা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চারটি শক্তিশালী তাজাবোমা, তিনটি পেট্রলবোমা, একটি শাটার গান ও পাঁচ রাউন্ড বন্দুকের গুলি উদ্ধার করেছে। দামুড়হুদায় ছয়টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
এ দিকে শনিবার রাতে দামুড়হুদার কার্পাসডাঙ্গার বিভিন্ন এলাকায় ছয়টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
দামুড়হুদা থানার ভারপ্রাপ্ত কমকর্তা আহসান হাবিব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
সাদুল্যাপুর (গাইবান্ধা) : গাইবান্ধার-৩ (পলাশবাড়ি-সাদুল্যাপুর) আসনের সাদুল্যাপুর উপজেলার ২৭টি ভোটকেন্দ্রের ব্যালট বাক্সে আগুন দিয়েছে নির্বাচনবিরোধীরা। শনিবার বিকেল থেকে রোববার বেলা ১১টা পর্যন্ত ২৭টি কেন্দ্র এ ঘটনার শিকার হয়েছে।
এ ছাড়াও পলাশবাড়ী উপজেলার ৯টি কেন্দ্রে কোনো প্রিজাইডিং অফিসার কিংবা ভোটের সরঞ্জমাদি পৌঁছেনি বলে জানা গেছে। সাদুল্যাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে, উপজেলার ছান্দিয়াপুর, দাউতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে রাতে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটেছে।
সাদুল্যাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ ফরহাদ হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, বেশ কয়েক কেন্দ্রে এসব ঘটনার কারণে ভোট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে বিষয়টি জেলা রিটানিং কর্মকর্তার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে বলে জানান।
ফরিদপুর : ফরিদপুর জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বীহীন জয় পাওয়ায় একমাত্র ফরিদপুর-৪ আসনেই অনুষ্ঠিত হয়েছে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সদরপুর, চরভদ্রাসন ও ভাঙ্গা উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে গতকালের নির্বাচনে অধিকাংশ ভোটারই ভোট বর্জন করে ভোট দিতে কেন্দ্রে আসেননি। অনেক কেন্দ্রে প্রার্থীদের পোলিং এজেন্ট ছিল না।
সরেজমিন রোববার ভোট গ্রহণের দিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করে দেখা গেছে ভোটারবিহীন নির্বাচনের এ চিত্র। একটি ভোটকেন্দ্রেও কোনো উৎসবমুখর পরিবেশ ল করা যায়নি। কোনো কেন্দ্রেই দেখা যায়নি ভোটারদের কোনো লাইন। সাধারণ মানুষের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে কোনো আগ্রহ ছিল না। বরং একপ্রকার উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছিল অনেকের মধ্যে। ভোটসংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার ও এজেন্টদের সারা দিন অলস সময় কাটাতে দেখা গেছে। এর মধ্যে দু-একজন করে ভোটার এসে ভোট দিয়ে কেন্দ্র ত্যাগ করেছেন। কয়েকটি কেন্দ্রে মৃত ভোটার ও অনুপস্থিত ব্যক্তিদের ভোট দেয়াসহ জালভোট দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে একজনকে জালভোট দেয়ার অভিযোগে আটক করা হয় কাজী ওয়ালিউল্লাহ উচ্চবিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে। পল্লীবেড়া ঈদগাহ ভোটকেন্দ্রে একজনের ভোট অন্যজন দেয়ার পরে সেখানে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। নির্বাচনে প্রার্থীদের পওে স্বতঃস্ফূর্ত তৎপরতা ল করা যায়নি।
মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) সংবাদদাতা জানান, মঠবাড়িয়া আবদুল ওহাব বালিকা আলিম মাদরাসা ভোটকেন্দ্রে গত শনিবার সন্ধ্যার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ল্য করে দুর্বৃত্তরা পেট্রলবোমা নিপে করে পালিয়ে যায়। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।
মনিরামপুর (যশোর) সংবাদদাতা জানান, বোমা বিস্ফোরণ, অগ্নিসংযোগ, ব্যালট ছিনতাইয়ের মধ্য দিয়ে গতকাল যশোর-৫, (মনিরামপুর) আসনের ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট খান টিপু সুলতান ও আওয়ামী লীগ নেতা স্বপন ভট্টাচার্য্য স্বতন্ত্রপ্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। চরম উত্তেজনা এবং শঙ্কার মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণের কাজ চললেও ১২২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে বেলা ১টার মধ্যে ৪৬টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ বন্ধ হয়ে যায়। এসব কেন্দ্রে নিয়োজিত প্রিজাইডিং, পোলিং ও পুলিশ সদস্যরা আহত হন। আহতদের মধ্যে হাজরাকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রিজাইডিং অফিসার তরিকুল ইসলামসহ কয়েকজনকে মনিরামপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বন্ধ হওয়ায় এসব কেন্দ্রগুলোর অধিকাংশই ব্যালট পেপার ছিনতাই ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। ইত্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা নায়েক আলাউদ্দীনসহ আহত হয়েছে সাতজন। সাতগাতী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পিটিয়ে আহত করেছে তিন সদস্যকে।
মহম্মদপুর (মাগুরা) সংবাদদাতা জানান, মাগুরা মহম্মদপুর উপজেলার রাজাপুর রাহাতপুর ও নিত্যানন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে গতকাল বিকেল ৩টার দিকে বোমা হামলা চালিয়ে কেন্দ্রের সংগৃহীত সব ভোট বাক্স ছিনতাই করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। কেন্দ্রটিতে ভোটগ্রহণ বাতিল করা হয়েছে। কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার ও মহম্মদপুর আমিনুর রহমান কলেজের প্রভাষক ফজলুল হক জানান, ওই কেন্দ্রে মোট ভোটার ছিলেন, দুই হাজার ৫১০ জন। হামলার আগ পর্যন্ত ৭৬৩টি ভোট কাস্ট হয়েছিল।
জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা জানান, জীবননগর উপজেলার অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রে ছিল না ভোটারদের সরব উপস্থিতি ও লম্বা লাইন। উপজেলার ৫৩টি ভোটকেন্দ্রে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি কেন্দ্র ছিল ফাঁকা। এ দিকে ভোটের আগের দিন গত শনিবার রাতে জীবননগর শহরের বেশ কয়েকটি স্থানে এবং কাশিপুর গ্রামে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এ সংবাদে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ছাতক সংবাদদাতা জানান, সুনামগঞ্জ-৫, ছাতক-দোয়ারা নির্বাচনী এলাকায় বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ভোটগ্রহণের আগেই দোয়ারার রামপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আগুন, নরসিংপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আগুন, ককটেল বিস্ফোরণ, ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। ছাতকের আলমপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়, কালারুকা মাদরাসা, হাজী রইছ আলী উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে আগুন লাগিয়েছে দুর্বৃত্তরা। সংঘর্ষ হয়েছে ছাতকের বৈশাকান্দি-বাহাদুরপুর ও ভাওয়াল আলমপুর ভোটকেন্দ্রে। এতে ভাওয়াল আলমপুরে একজন ও বৈশাকান্দি-বাহাদুরপুর কেন্দ্রে দুইজন আহত হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল থেকেই এ আসনে দুই উপজেলার ১৫১ ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল নগণ্য। বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, ভোটারবিহীন অবস্থায় আ’লীগের কিছু কর্মী কেন্দ্রে প্রবেশ করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভোট দিচ্ছে নৌকা প্রতীকে। এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মুহিবুর রহমান মানিক ও বিএনএফের প্রার্থী আশরাফ হোসেন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। তবে কোনো ভোটকেন্দ্রে আশরাফ হোসেনের এজেন্ট দেয়া হয়নি। দুই উপজেলার কোনো ভোটকেন্দ্রেই ভোটারদের লাইন ছিল না। কোনো কোনো ভোটকেন্দ্রে জোর করে ভোটারদের আনতে দেখা গেছে এবং ছাত্র ও শিশুদের দিয়ে ভোট দেয়ানো হচ্ছেন।
মাধবদী (নরসিংদী) : মাধবদীতে বিভিন্ন অনিয়মের মধ্য দিয়ে প্রায় ভোটারবিহীন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল নির্বাচনের দিন সকাল ৮টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হলেও প্রায় ২ ঘণ্টা ভোটারশূন্য থাকার পর সকাল ১০টার পর মাধবদীর বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে হাতেগোনা কয়েকজন ভোটারের উপস্থিতি দেখা যায়। তবে দুপুর ১২টার দিকে এসব ভোটকেন্দ্র আবারো প্রায় ভোটারশূন্য হয়ে পড়ে। এ ছাড়াও বেলা ১টার দিকে মাধবদী এসপি ইনস্টিটিউশন ভোটকেন্দ্রে একাধিক ভোট দেয়ার অপরাধে এবং ভোটকেন্দ্রে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ছাত্রলীগের ২০ নেতাকর্মীকে আটক করে নরসিংদী জেলা প্রশাসক। পরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য তাদের ছাড়িয়ে নেন। এ দিকে মাধবদীর বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে বেলা ২টার পর লাঙ্গল মার্কার এজেন্টদের বের করে দিয়ে আওয়ামী লীগ কর্মীরা একতরফা নৌকা প্রতীকে জালভোট দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) : মৌলভীবাজারের ৪টি সংসদীয় আসনের মধ্যে কুলাউড়া-কমলগঞ্জ (আংশিক) নির্বাচনী আসনে ভোট গ্রহণ হলেও বেশির ভাগ কেন্দ্রে গতকাল বেলা পৌনে ১২টা পর্যন্ত কোনো ভোটার ভোট দিতে আসেননি। কুলাউড়া উপজেলার লস্করপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসাররা বসে আছেন ভোটারের অপোয়। কিন্তু একটি ভোটও কাস্ট না হওয়ায় হতাশা ব্যক্ত করেন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার দেবব্রত ধর। শহরের এনসি স্কুল কেন্দ্রে ২ হাজার ভোটারের মধ্যে ভোট পড়েছে ৩৫টি। শহরের প্রাণকেন্দ্রে রাবেয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩ হাজার ৩০০ ভোটের মধ্যে ভোট কাস্ট হয়েছে ৪০টি। মনসুর মাদরাসা কেন্দ্রে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ভোট কাস্ট হয়েছে ১০টি। কাদিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৮টি ও উচাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কোনো ভোট কাস্ট হয়নি। পৃত্থিমপাশার আলীনগর কেন্দ্রে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত কোনো ভোট কাস্ট হয়নি। রাউৎগাঁও ইউনিয়নের ৭টি কেন্দ্রের ৫টিতে গত শনিবার রাতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় দুপুর ১২টা পর্যন্ত কোনো ভোট কাস্ট হয়নি বলে জানা গেছে। এ চিত্র দেখা যায় বেশির ভাগ কেন্দ্রে।
লালমনিরহাট : লালমনিরহাটের ২টি আসনে ভোট গ্রহণ হয়েছে। এর মধ্যে লালমনিরহাট-১ আসনে ৮৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩১টি কেন্দ্রে কোনো ভোট পড়েনি। এ আসনে মোট ভোটারসংখ্যা ২ লাখ ৪ হাজার ৩০০। এ ছাড়াও ১ নম্বর আসনে ৫টি কেন্দ্রে কোনো ভোট পড়েনি বলে জানা যায়। এখানে হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলায় মোট ভোটারসংখ্যা ৭ লাখ ৭৬ হাজার ৫৭৭ জন।
No comments:
Post a Comment