Monday, January 6, 2014

গণপ্রত্যাখ্যাত নির্বাচন বাতিল ও অবিলম্বে পদত্যাগ করুন : জামায়াত


দলের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান সোমবার এক বিবৃতিতে এ আহবান জানিয় বলেন, একদলীয় নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে আবারো দেশের মানুষ প্রমাণ করেছে তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সকল দলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পক্ষে।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, দেশের জনগণ আওয়ামী লীগের একদলীয় প্রহসনের নির্বাচন ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। এ নির্বাচনে জনগণ ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে যায়নি। দেশবাসী ও বিশ্বসম্প্রদায় মিডিয়ার মাধ্যমে দেখেছেন, কোন ভোট কেন্দ্রেই চোখে পড়ার মতো কোনো ভোটার ছিল না। কোনো কোনো কেন্দ্রে সারা দিনে একজন ভোটারও ভোট দিতে যাননি। নির্বাচনের নামে এ ধরনের প্রহসন ইতিপূর্বে পৃথিবীর আর কোথাও সংঘটিত হয়নি। দেশের বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, সুশীল সমাজ ও সচেতন নাগরিক এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়া এ নির্বাচনের দূরবস্থার চিত্র তুলে ধরে মন্তব্য করেছেন, এটা কোন নির্বাচনই নয়। দেশের জনগণ নিজেদের ন্যায্য ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য শান্তিপূর্ণভাবে যে আন্দোলন করে যাচ্ছে একদলীয় নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে আবারো দেশের মানুষ প্রমাণ করেছে তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সকল দলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পক্ষে। যারা জনগণকে ভয় পায়, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে যাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে বলে নিজেরা আশঙ্কা করে তারাই ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার নিরাপদ পথ হিসেবে একদলীয় নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার ঘৃণ্য পথ অবলম্বন করে। আওয়ামী লীগ এই ঘৃণ্য পথ অবলম্বন করে কলঙ্কজনক অধ্যায়ের সৃষ্টি করেছে। শতকরা ৯০ ভাগ মানুষের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে কোন সরকারই দেশ চালাতে পারে না, এ সরকারও পারবে না। 
জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, আমরা সুস্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, বাংলাদেশ কোন দলের বা ব্যক্তির একক সম্পত্তি নয়। এটি ১৬ কোটি মানুষের দেশ। জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিগণই রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন। জনগণ ৫ তারিখের নির্বাচনে কোন প্রার্থীকে ভোট দেয়নি। নির্বাচনের নামে নাটক মঞ্চস্থ করে জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়াই নির্বাচনের তামাশা করে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার অসাংবিধানিক, অনৈতিক ও অসৎ পন্থা অবলম্বন করেছে আওয়ামী লীগ। সরকার কোটি কোটি মানুষের সাথে প্রতারণা করে গণমাধ্যমে প্রকাশিত চিত্র আঁড়াল করে ভোটার বিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে জোর করে ক্ষমতায় আঁকড়ে থাকতে চায়। এ সরকারের পেছনে জনগণের কোনো সমর্থন নেই। এ সরকার অবৈধ। অবৈধ সরকারের কোনো অধিকার নেই রাষ্ট্র পরিচালনার ও রাষ্ট্র ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীগণ এ সরকারের আদেশ মানতে বাধ্য নন। এ অবৈধ সরকারের সকল সিদ্ধান্ত, বে-আইনী, সংবিধান পরিপন্থী।  সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য জাতিকে চরমভাবে হতাশ করেছে। তার বক্তব্যে সারবস্তু, বাস্তবতা, আশাবাদ বলে কিছুই নেই। তিনি ভোটার বিহীন নির্বাচনের পক্ষে যে সাফাই গেয়েছেন তা বিশ্ববাসীর নিকট বাংলাদেশের মর্যাদাকে আরেকবার ভূলুণ্ঠিত করেছে।
 তিনি বলেন, দেশে গণতন্ত্র, সংবিধান ও আইনের শাসনকে নির্বাসনে পাঠিয়ে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রক্ষমতা দখলে রেখে স্বৈরাচারী পন্থায় রাষ্ট্র পরিচালনার যে গণবিরোধী পন্থা অবলম্বন করেছে, তা দেশ ও জাতিকে ধ্বংসের গহ্বরে নিপতিত করবে। যে সরকার নিজেই সংবিধান মানে না, আইনের তোয়াক্কা করে না, গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, সে সরকারের উপর জনগণের কোন আস্থা নেই। জনগণের কল্যাণে সে সরকার কার্যতঃ কোন ভূমিকা পালন করতে পারে না, এটাই ইতিহাস। জনগণের প্রতি ন্যূনতম আস্থা, বিশ্বাস ও গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থাকলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে সরকার একদলীয় প্রহসনের নির্বাচনের নাটক মঞ্চস্থ করতে পারতো না। সরকার গুটি কয়েক লুণ্ঠনকারীকে নিয়ে দেশের ১৬ কোটি মানুষের বিপক্ষে অবস্থান গ্রহণের যে চক্রান্ত করছে তা রাষ্ট্রের জন্য ভালো ফল বয়ে আনতে পারে না।
আমরা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, বাস্তবতা উপলব্ধি করে, গণতন্ত্রের পথে আসুন, দেশের ১৬ কোটি মানুষের দিকে তাকান, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি দিন, অর্থনীতি রক্ষা করুন। বাংলাদেশের শান্তি প্রিয় মানুষের অধিকার নিশ্চিত করুন। এই একদলীয় প্রহসনের নির্বাচন বাতিল করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করে নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করে গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করুন।
বিবৃতিতে তিনি দিনাজপুর সদর উপজেলার চেহেলগাজী ইউনিয়নের কর্নাই গ্রামে, বীরগঞ্জ ও খানসামা উপজেলায় সংখ্যালঘু হিন্দুদের কয়েকটি বাড়িতে, দোকানে উচ্ছৃঙ্খল জনতার কথিত হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের দুঃখজনক ঘটনার আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। কিছু সংবাদপত্র ও মিডিয়া ঐ ঘটনার জন্য জামায়াত-শিবিরকে দায়ী করে অপপ্রচার চালিয়ে জামায়াত-শিবিরকে রাজনৈতিকভাবে ঘায়েল করার ষড়যন্ত্র করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।  তিনি দেশবাসীকে সংবিধান, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায়, ধৈর্য ও সহনশীলতার সাথে শান্তিপূর্ণ উপায়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আন্দোলন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। 
বিজ্ঞপ্তি।

No comments:

Post a Comment