Monday, January 6, 2014

ভোটারশূন্য বিতর্কিত নির্বাচন পর্যবেক্ষকদেরও দেখা নেই


‘ভোটার নেই, পর্যবেক্ষকেরও দেখা নেই’Ñ এমন শিরোনামেই রোববারের নির্বাচন সম্পর্কে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলোর সবাই বিরোধীদলের বয়কটে ভোটারশূন্য নির্বাচনের কথা বলেছে। বিপুল লোকের নিহত হওয়ার খবরও এতে বেশ গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে। সব মাধ্যমেই এই নির্বাচনকে বিতর্কিত হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
বিবিসির খবরে বলা হয়, বাংলাদেশের বিতর্কিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিদেশী পর্যবেক্ষকেরা পর্যবেক্ষণ করছেন না। ঢাকায় নির্বাচনী কেন্দ্রগুলোতে দেশীয় পর্যবেক্ষকের সংখ্যাও ছিল খুবই কম।
অনেক কেন্দ্রে পর্যবেক্ষকের কোনো উপস্থিতিও দেখা যায়নি। আবার কিছু কেন্দ্রে পর্যবেক্ষকেরা ছিলেন খোশ গল্পে। তবে কমবেশি তারা সবাই জানিয়েছেন ভোটকেন্দ্রগুলোতে তেমন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলেও আতঙ্কের কারণে ভোটার উপস্থিতি ছিল খুবই কম।
বিবিসির প্রতিবেদনে বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটার, পর্যবেক্ষকদের প্রতিক্রিয়াও তুলে ধরা হয়েছে।
এতে বলা হয়, বাংলাদেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য সুপরিচিত সংগঠনের বেশ কিছু প্রতিনিধিকে ভোটকেন্দ্রেই দেখা যায়নি। যদিও ফেমা ও জানিপপ আগেই জানিয়েছিল, তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে এবার সীমিত আকারে নির্বাচন পর্যবেণ করবে। এ ছাড়া মানবাধিকার সমন্বয় পরিষদের পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি কিছু ভোটকেন্দ্রে চোখে পড়েছে। তবে এসব পর্যবেক্ষকের অনেকেই বলেছেন, তাদের প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বরত পর্যবেক্ষকদের নির্বাচন বা ভোট গ্রহণের বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা না বলার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
বিবিসির মূল প্রতিবেদনে এক ভোটারের প্রতিক্রিয়া তুলে ধরেছে। ওই ভোটার জানান, ‘এত ভয় আমি কখনো পাইনি।’
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরা জানায়, বিতর্কিত এই নির্বাচন ছিল সহিংসতায় জর্জরিত। এতে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন।
এতে পুলিশের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, দুই শতাধিক কেন্দ্রে দুর্বৃত্তরা অগ্নিসংযোগ করেছে বা গুঁড়িয়ে দিয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির সংবাদদাতারা জানান, ভোটে কোনো লাইন ছিল না। স্থানীয় টেলিভিশনে খবর প্রকাশ করেছে, একটি কেন্দ্রে প্রথম তিন ঘণ্টায় ভোট দিয়েছেন মাত্র একজন।
ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই জানায়, এই নির্বাচনে প্রাণঘাতী সংঘর্ষ এবং নিম্ন উপস্থিতি ছিল। এতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই নির্বাচনকে ত্রুটিপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করেছে। ১৯ জন নিহত হওয়ার খবরও প্রকাশ করেছে পিটিআই।
ভারতের জি নিউজ ‘তামাশা’র নির্বাচনে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার কথা বলেছে। এতে ১৮ জন নিহত হওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এপি রাজধানী ঢাকার এক অধিবাসীর উদ্ধৃতি দিয়ে বলে, ‘আমি কখনো এমন নির্বাচনের কথা কল্পনা করিনি।’
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, প্রধান বিরোধীদলের বয়কটের পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ যে জয়ী হবে তাতে কোনো সন্দেহ ছিল না। এতে বলা হয়, স্বল্প ভোটার উপস্থিতির ফলে নতুন নির্বাচন আয়োজনের জন্য বিরোধী বিএনপির সাথে আপস করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও অর্থনীতিবিদ হোসেন জিল্লুর রহমানের উদ্ধৃতি দিয়ে রয়টার্স জানায়, ‘এই করুণ ভোটার উপস্থিতির তাৎক্ষণিক ফলাফল হবে বিরোধীদলের সাথে আলোচনা করতে হাসিনা সরকারের ওপর আরো বেশি চাপের সৃষ্টি হওয়া।’ তিনি বলেন, ‘এটা ছিল বাংলাদেশের জনগণের চূড়ান্ত প্রতিবাদ। তারা আমাদের বলছে, যেভাবে এই দেশে নির্বাচন হচ্ছে, তাতে তারা খুশি নয়।’
জার্মান সংবাদ মাধ্যম ডয়েচে ভেলের খবরে বলা হয়, সহিসংতা আর কম ভোটার উপস্থিতির মধ্য দিয়ে বিরোধী দল ছাড়াই দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে? নির্বাচনী সহিংসতায় ১২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে? এ ছাড়া ভোটকেন্দ্রে হামলা ও ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে?
ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকার শিরোনাম ছিল, ‘অশান্তির আবহেই মিটল বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন’। এতে বলা হয়, রাজনৈতিক মতানৈক্যের কারণে এ দিনের নির্বাচনে আমেরিকা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক পাঠাতে অস্বীকার করায় ভারত ও ভুটানের পর্যবেক্ষকেরা দায়িত্বে রয়েছেন।

No comments:

Post a Comment