সব প্রস্তুতি সম্পন্ন ঢাকা, ০৪ জানুয়ারী, এবিনিউজ : রাত পোহালেই আগামীকাল রবিবার ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহন অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৮টায় শুরু হয়ে ভোট গ্রহণ চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ইতোমধ্যেই সারাদেশে কঠোর নিরাপত্তাসহ এ সংক্রান্ত সকল আনুষ্ঠানিকতা সুসম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নাশকতার আশঙ্কায় ১৯টি জেলার ৭০ থেকে ৮০টি আসনকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করছে ইসি। ভোটের দিন পরিবেশ সুষ্ঠু রাখাসহ ভোটার ও ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে নির্বাচনী কর্মকর্তারা। তবে বিএনপি জামায়াতের নাশকতাসহ সারাদেশে শতাধিক ভোট কেন্দ্রে আগুন দেয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ভোটারদের মনে শঙ্কা-দুশ্চিন্ত রয়েই গেছে। অবশ্য সারাদেশে সেনা টহল ছাড়াও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ- বিজিব, র্যাপিড একশন ব্যাটলিয়ন- র্যাব, পুলিশ ও আনসারদে সমন্বয়ে নিরাপত্তা বলয় সৃষ্টি করা হয়েছে বলে দাবি করছে ইসি।
জাতীয় ৩০০টি আসনের মধ্যে এবার ভোট হচ্ছে ১৪৭টি আসনে। ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দীতায় নির্বাচিত হওয়ায় ওসব আসনে ভোট গ্রহণের প্রয়োজন হয়নি। ইতোমধ্যেই ৫৯টি জেলায় ১৮ হাজার ২০৯টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে। ওসব নির্বাচনি এলকায় মোট ভোটার ৪ কোটি ৩৯ লাখ ৩৮ হাজার ৯৩৮ জন। প্রার্থী ৩৯০ জন। এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে মোট ১২টি দল। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ ১২০টি আসনে লড়ছে, ২৭টি আসনে আওয়ামী লীগের কোন প্রার্থী নেই। স্বতন্ত্র ১০৪ জন, জাতীয় পার্টি ৬৬, জাতীয় পার্টি জেপি ২৭, জাসদ ২১, ওয়াকার্স পার্টি ১৬টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। অন্যান্য দলের প্রার্থী রয়েছে একজন করে।
ইসি সূত্রে জানা যায়, এবার নিরত্তার দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধে আনসার ২,১৮,৫০০, পুলিশ ৮০ হাজার, সশস্ত্র বাহিনী ৫২ হাজার ১০০, বিজিবি ১৬ হাজার১৮১, র্যাব ৮ হাজার ৪০৪ এবং ২০০ জনকোস্টগার্ড রয়েছে। ফলে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সব মিলে ১৫ থেকে ১৮ জন করে নিরাপত্তা রক্ষী থাকবে। এছাড় এবার ইলেকটোরাল ইনকুয়ারি কমিটি রয়েছে ১০৩টি। এবারের নির্বাচন পর্যবেক্ষন করবে ১০ হাজার ৩৫৫ জন। পক্ষান্তরে নির্বাচনে ১৮ হাজার ২০৮টি ভোটকেন্দ্রের জন্য ৩৬ হাজার ৪১৬ জন আনসার লাঠির বদলে অস্ত্র পাবেন। ১৪৭টি আসনে একজন করে বিচারিক হাকিম দায়িত্ব পালন করবেন।
অন্যদিকে গত শুক্রবার সকাল ৮টা থেকেই শেষ হয়েছে ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। এর আগের বুধবার জারি করা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) আলোকে নির্বাচন কমিশনের পরিপত্রের নির্দেশনায়- শুক্রবার সকাল ৮টায় শেষ হয় ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার প্রচারণার সময়। প্রচারণা নিষিদ্ধ থাকবে ভোট গ্রহণের দিন সকাল আটটা পর্যন্ত। এছাড়া নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনে অংশ নেয়া ছয়টি দলের প্রধান বা তাদের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) মাধ্যমে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৭৮ ধারা অনুযায়ী, ভোট গ্রহণ শুরুর সময় থেকে পূর্ববর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোনো ধরনের প্রচারণা চালানো যাবে না। এ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হবে আগামীকাল ৫ জানুয়ারি রবিবার সকাল আটটায়। সে হিসাবে শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নির্বাচনী এলাকায় কোনো ধরনের প্রচার-প্রচারণা চালানো যাবে না। তবে সাধারণত প্রার্থীরা অনানুষ্ঠানিকভাবে আজ মধ্যরাত পর্যন্ত প্রচারণা চালিয়ে থাকেন।
প্রসঙ্গত সারাদেশে এবার ভোটার সংখ্যা- ৯ কোটি ১৯ লাখ ৬৫ হাজার ৯৭৭। নারী ৪ কোটি ৫৮ লাখ ৪১ হাজার ৯০৫; পুরুষ ৪ কোটি ৬১ লাখ ২৪ হাজার ৭২। মোট ভোটকেন্দ্র - ৩৭ হাজার ৭০৭, ভোটকক্ষ- ১ লাখ ৮৯ হাজার ৭৮। রিটার্নিং কর্মকর্তা রয়েছেন ৬৬ এবং সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ৫৭৭ জন। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়া ১২৭ জন আওয়ামী লীগের, ২০ জন জাতীয় পার্টির,৩ জন জাসদের, ২ জন ওয়ার্কার্স পার্টির, ১ জন জেপির। চাঁদপুর, রাজবাড়ী, জয়পুরহাট, শরীয়তপুর ও মাদারীপুর জেলায় ভোট হচ্ছেনা।
No comments:
Post a Comment